শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ,
শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

বগুড়ার ইতিকথা

বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি জেলা শহর। বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। কারন এর উপর দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলা শহর বহমান।


বগুড়া নামকরন : 

সুলতান গিয়াস উদ্দীন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দীন বগড়া খান ১২৭৯ থেকে ১২৮২ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। এই বগড়া খান এর নাম অনুসারে এ জেলার নামকরন করা হয় ’বগুড়া জেলা’ ।


আয়তন ও সীমানা : 

বগুড়া জেলার আয়তন ২৮৯৮ বর্গ কি:মি: । সীমানা উত্তরে গাইবান্ধা ও জয়পুর হাট, দক্ষিনে সিরাজগঞ্জ ও নাটোর,  পশ্চিমে নওগাঁ ও জয়পুর হাট, পূর্বে জামালপুর ও যমুন্ নদী ।
 
 মানচিত্র : বগুড়া  

উপজেলা সমূহ : 

বগুড়া সদর উপজেলা, সারিয়াকান্দি উপজেলা, সোনাতলা উপজেলা, শিবগঞ্জ উপজেলা, দুপচাচিয়া উপজেলা, আদমদিঘী উপজেলা, কাহালু উপজেলা, নন্দীগ্রাম উপজেলা, শেরপুর উপজেলা, ধনুট উপজেলা, গাবতলী উপজেলা, শাহজানপুর উপজেলা ।


সংসদীয় আসন :


 বগুড়া - ১ ( সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা )
বগুড়া - ২ ( শিবগঞ্জ )
বগুড়া - ৩ ( দুপচাঁচিয়া ও আদমদিঘ )
বগুড়া - ৪ ( কাহালু ও নন্দিগ্রাম )
বগুড়া - ৫ ( শেরপুর ও ধনুট )
বগুড়া - ৬ ( বগুড়া সদর )
বগুড়া - ৭ ( গাবতলী ও শাহজানপুর )


শিক্ষা নগরী :

বগুড়া একটি শিক্ষা নগরী। এখানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে বগুড়ার প্রান কেন্দ্র সাতমাথার পার্শে ঐতিহ্যবাহী বগুড়া জেলা স্কুল, বগুড়া ভি এম স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল উল্লেথ যোগ্য। এখান থেকে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সরকারী বগুড়া আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারী শাহ-সুলতান কলেজ, বগুড়া মজিবুর রহমান মহিলা কলেজ সহ বিভিন্ন স্কূল- কলেজ থেকে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী হাইয়ার লেভেলে ডিগ্রী লাভ করে দেশের উচ্চ শ্রেনীর কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন । এছাড়া গ্রাজুয়েট, অনার্স, মাষ্টার ডিগ্রী অসংখ্য ছাত্র-ছ্ত্রী বগুড়ার কলেজ গুলো থেকে শিক্ষা লাভ করে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োজিত আছেন। বগুড়ার একটি অত্যন্ত পুরাতন কলেজ “চন্দনবাইশা ডিগ্রী কলেজ “। ইহা সারিয়াকান্দি উপজেলায় অবস্থিত। এই কলেজটি ১৯৬৪ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজ থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা লাভ করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে নিয়োজিত আছেন। কেউ সচিব, কেউ ডি সি, কেউ ম্যাজিষ্ট্রেট সহ বিভিন্ন পদে চাকুরী করছেন। কিন্তু দু:খের বিষয় আজ পর্যন্ত এই কলেজটি সরকারীকরন হয় নাই। তাই কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তি যদি কলেজটির প্রতি একটু দৃষ্টি দিতেন, যাতে কলেজটি জাতীয়করন হয়। কলেজটি অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। কলেজটির কিছু দুরেই যমুনা নদী অবস্থিত। তাই যমুনা নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য ও কলেজটি এক নজর দেখার জন্য আপনাদের আমন্ত্রন রহিল।


পর্যটন কেন্দ্র : 

বগুড়া শহরের ১০ কি:মি: দুরে মহাস্থানগড় অবস্থিত । এখানে হযরত শাহ-বলখী (র:) এর মাজার শরীফ আছে, রাজা পরশুরামের রাজ্য, শীলাদেবীর ঘাট, জিউৎকুন্ড, মিউজিয়াম সহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র আছে। এছাড়া নয়াব প্যালেস আছে যা ব্রিটিশ আমলে ’নীল-কুঠী’ নামে পরিচিত। চার তারকা বিশিষ্ট নাজগার্ডেন আছে, পাঁচ তারকা বিশিষ্ট হটেল মম ইন রয়েছে । এই সব পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে মানুষ অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দে থাকা, খাওয়া ও ভ্রমন করতে পারেন।

নদ-নদী সমূহ : 

বগুড়ার নদ-নদীর মধ্যে অনতম হলো করতোয়া নদী, নাগর নদী, বাঙ্গালী নদী যমুনা নদী। বগুড়া করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। এই করতোয়া নদী এক সময় যৌবনে ভরপুর ছিল, বর্তামানে তা  বিভিন্ন কারনে ভাটা পড়েছে। এখন নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
 
 করতোয়া নদী

 কৃতী-সন্তান : 

১। মেজর জিয়া্উর রহমান : বীর উত্তম ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ।
 ২। প্রফুল্ল চাকী : ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ।
৩। মোহাম্মাদ আলী : কুটনীতিক ও পাকিস্থানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ।
 ৪। খায়রুল বাসার : বীর উত্তম ও বীমান বাহিনী প্রধান।
 ৫। গাজীউল হক : ভাষা সৈনিক ।
 ৬। এম আর আখতার মকুল : লেখক ও সাংবাদিক ।
৭। মুশফিকুর রহিম : জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ার ।
৮। অপু বিশ্বাস : চলচিত্র অভিনেত্রী ।
 ৯। তরুন মজুমদার : চিত্র পরিচালক ।
 ১০। হোসনে আরা বেগম : নির্বাহী পরিচালক, টি এম এস এস, ঠেঙ্গামারা ।

 বিখ্যাত খাবার : 

বগুড়ার বিভিন্ন খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো দই। বগুড়ার দই অত্যন্ত সুসাধু। বগুড়ায় ছোট বড় যেকোন অনুষ্ঠানে দই থাকবেই। দই ছাড়া কোন অনুষ্ঠান জমেই না। বগুড়ায় আকবরীয়া হোটেল, শ্যামলী হোটেল, এশিয়ার দই, মহরম দই, চিনিপাতা দই, সহ বিভিন্ন নামকরা হোটেল আছে যেখানে অন্যতমানের দই পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বগুড়ার দইয়ের বেশ সুনাম আছে। বগুড়ার দই দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিরাজমান।
বগুড়ার দই
পরিশেষে বলা যায় বগুড়া একটি সাজানে গোছানো পরিপাটি সু্ন্দর শহর। এখানে আছে মাহী সাওয়ারের মাজার শরীফ, আছে উন্নতমানের শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, উন্নতমানের হোটেল নাজগার্ডেন। বগুড়ায় জন্ম লাভ করেছেন গুনধর ব্যক্তিত্ববান বগুড়ায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মমতাজ উদ্দীন এবং গুনধর ব্যক্তিত্ববান বীর উত্তম ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান, যার জন্য আমরা গর্ববোধ করি।

Post a Comment

1 Comments

Munu Munu said…
Nice post