শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads
                                                                ‘প্রিয় বাংলাদেশ’                                                                   

Historical place of Mohasthan Gore - মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান

মহাস্থান একটি ঐতিহাসিক স্থান। ইহার ইতিহাস ও ঐতিহ্য এক অনন্য ঘটনা বহুল। এই মহাস্থানে মহাস্থানগড় অবস্থিত। মহাস্থানগড় বগুড়া জেলার উত্তরে ১০ কি:মি: দুরে শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। পূর্বে এর নাম ছিল পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর। এক সময় ইহা বাংলাদেশের রাজধানী ছিল। এখানে প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, ও সেন সম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়াছে ।

Mohasthan

 Mohasthan

ঐতিহাসিক ঘটনা বহুল :  

সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষন সেন (১০৮২ - ১১২৫ খৃ:) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই মহাস্থানগড় অরক্ষিত ছিল। মহাস্থানের রাজা ছিলেন নলযার । এই নলযারের সাথে তার ভাই নীলযারের সাথে বিরোধ লেগেই থাকত। এ সময় ভারতের দাক্ষিনাত্যের শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে আগত এক অভিশপ্ত ব্রাক্ষ্মন এখানে আসেন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে। কারন তিনি পরশু বা কুঠার দ্বারা মাতৃহত্যা দায়ে অভিশপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই দুই ভাইয়ের বিরোধের অবসান ঘটান এবং এক পর্যায়ে তিনি রাজা হন। এই ব্রাক্ষ্মনের নাম ছিল রাম । এই রামই ইতিহাসে পরশুরাম নামে পরিচিত। কথিত আছে পরশুরামের সাথে হযরত শাহ সুলতান বলখী (র:) এর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হয়।

মাজার শরীফ :  

মহাস্থান বাসস্ট্যন্ড থেকে কিছু পশ্চিমে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার শরীফ অবস্থিত। কথিত আছে মাছের পিঠে আরোহন করে তিনি  এখানে আসেন। তাই তাকে মাহী সওয়ার বলা হয়। হযরত মীর বোরহান নামক একজন মুসলমান এখানে বাস করতেন। তিনি পুত্রের মানতে গরু কুরবানী দেন । এই অপরাধে রাজা পরশুরাম তাকে বলি দেওয়ার আদেশ দেন। তাকে সাহায্য করার জন্য মাহী সওয়ারের আগমন ঘটে। পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্র করে মাজার শরীফ গড়ে উঠে।


শীলাদেবীর ঘাট : 

গড়ের পূর্ব পার্শে করতোয়া নদীর তীরে শীলাদেবীর ঘাট । শীলাদেবী ছিলেন পরশুরামের বোন। এই ঘাটে শীলাদেবী আত্মহুতি দেন। তাকে কেন্দ্র করে হিন্দুরা এ ঘাটে স্নান করতে আসে এবং বছরে একবার মেলা বসে। মেলায় তারা বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী কিনাকাটা করেন।


জিউৎকুন্ড :  

শীলাদেবী ঘাটের পশ্চিমে জিউৎকুন্ড নামে একটি কূপ আছে। এই কূপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে উঠতেন। কথিত আছে এই কূপের পানি পান করলে মৃত ব্যক্তি জীবিত হত।

 
 কূপ

 বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসরঘর :  

মাহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কি:মি: দক্ষিন পশ্চিমে একটি বোদ্ধ স্তম্ভ আছে যা সম্রাট অশোক নির্মান করে ছিলেন। স্তন্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। স্তন্ভের পূর্ব ধারে রয়েছে ২৪ কোন বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি বাথরুম। এটি বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসরঘর নামে পরিচিত।

যাদুঘর : 

মহাস্থানগড় খননের ফলে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন যুগের বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন ও দেবদেবীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। যা মহাস্থানগড়ের উত্তরে অবস্থিত মিউজিয়াম বা যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

মহাস্থানগড় যে ভাবে আসবেন : 

ঢাকা গাবতলী বা মহাখালী থেকে এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী ট্রাভেলস, হানিফ ট্রাভেলস, টি আর ট্রেভেলস, একতা ট্রেভেলস গাড়ীতে আরোহন করে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড নামবেন। ভাড়া 350 টাক থেকে 400 টাকা নেবে। মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে 200 গজ পশ্চিমে গেলেই মহাস্থানগড় ।

সর্বপরি মহাস্থানগড় একটি ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থান এবং পর্যটন কেন্দ্র । এখানে প্রতিদিন অসংখ্য লোক মাজার জিয়ারত করতে আসে এবং ভ্রমন পিপাসুরা ভ্রমন করতে আসে। আপনাদের সবার আমন্ত্রন রহিল। আসুন মহাস্থানগড়ের পুরাকীর্তি দেখুন এবং সৌন্দর্য উপভোগ করুন।  

 

Post a Comment

1 Comments

munju said…
Your post is very nice. I am very happy.