শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads
                                                                ‘প্রিয় বাংলাদেশ’                                                                   

নারী-পুরুষের ভালবাসা

ভালবাসা হৃদয়ের, ভালবাসা শরীরের নয় - কথাটি কি ঠিক।আমি বলি ভালবাসা হৃদয়ের ও শরীরের উভয়েরই।যদি বলি ভালবাসা শরীরের তাহলে অনেকেই নাক কুচকে ফেলবেন।কিন্তু ভালবাসা হৃদয়ের ঠিক তবে তার বহি:প্রকাশ শরীরেরও।ভালবাসার প্রকাশ না থাকলে সেটা ধীরে ধীরে এক সময় একে অপরের ভিতরে অনাকাঙ্খিত দুর্বোধ্যতা সৃষ্টি করে।

Men love

Men love

একজন নারী তার রূপ, সাজ-গোছ এবং বিলাসিতা নিয়েই বেশী ব্যস্ত থাকে। কারন নারীরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই একজন পুরুষকে তাদের রূপের মায়াজালে বাঁধতে চায়।অথচ নির্বোধ নারী জানে না যে এই মায়াজাল হচেছ একটি নেশা, একটি মোহ। নেশা আর মোহ কখোনও স্থায়ী হয় না।একটা সময় তা শেষ হবেই। আর তাই শুধুমাত্র রূপপিয়াসী স্বামীর আবেগ অনুভুতি তার স্ত্রীর প্রতি কখনো দীর্ঘ স্থায়ী হয় না। স্রষ্টা একজন নারীর মধ্যে এতটা প্রেম, ভালবাসা এবং ধর্যে্র ঔশ্বর্য্য ‍দিয়েছে যে একজন নারী একজন পুরুষের জন্য হতে পারে অফুরন্ত ভালবাসা এবং সাধনার পাত্রী।একজন নারী যদি বিশ্বস্থ হয় তবে সে নারীর মাঝে খুজে পাওয়া যায় জগতের সকল ঔশ্বর্য্য, বেঁচে থাকার সমস্ত খোরাক।অথচ নারী তার মুল্যায়ন শুধু রুপ আর বংশ মর্য্যাদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। একজন পুরুষ যখন একজন নার ীর সৌন্দর্যে ‍বিমহিত হয়ে তার জন্য উম্মাদনা প্রকাশ করে, তখন একজন নারী তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী খুব গর্ব বোধ করে এবং ঐ পুরুষের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।অথচ যে পুরুষ নারীর মুল্যায়ন শুধু সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে বিচার করে, সে পুরুষ কখনও একজন নারীর জন্য যোগ্য পুরুষ হতে পারে না। কারন আজ যে নারী তার কাছে সুন্দরী কাল হয়তো অন্য রমনী তার কাছে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী রুপে প্রতীয়মান হবে।

    ভালবাসা হচ্ছে দু’জন প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর সিদ্ধান্ত, তার কিভাবে সেটা চর্চা করবে।যতক্ষন পর্যন্ত দু’জন সে বিষয়ে একই প্লাটফর্মে পৌছতে না পারবে এবং একে অপরের সাথে কমনিকেট করতে না পারবে, ততক্ষন পর্যন্ত সেটা তাদের ভালবাসা পর্যায়ে পৌঁছবে না।ভালবাসার সমস্যায় জট পাকায় তখন, যখন তারা ভালবাসার ক্ষেত্রে কমনিকেশন গেভ ফালায় এবং সেটা নিয়ে একে অপরকে আঘাত করে।সে আঘাত ভালবাসাকে হত্যা করে। ভালবাসার ক্ষেত্রে নারীদের একটি ধারনা কাজ করে যে তারা ভালবাসার ক্ষেত্রে প্যাসিভ ভূমিকা পালন করবে।আর সবটাই পুরুষের দ্বায়িত্ব। পুরুষের দ্বায়িত্ব নারীর সুরসুরী ভাঙানো। বিষয়টি একটি পর্য্যায় পর্যন্ত কাজ করতে পারে কিন্তু পরে নাও করতে পারে।আমি শারীরিক ভালবাসার কথা বলছি।শারীরিক ভালবাসা যে হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত নয় সেটা ভূল ধারনা।শারীরিক ভালবাসা হৃদয়ের সাথে বা মনের সাথে সর্ম্পৃক্ত।

    নারী-পুরুষের ভালবাসার জন্য দু’জন দু’জনের প্রতি যত্নশীল হতে হবে এবং তার বহি:প্রকাশ দরকার। এ বহি:প্রকাশ শুধু ”তুমি দুপরের খাবার খেয়েছ, তুমি ঔষধ খেয়েছ” এ শব্দাবলী একে অপরের জন্য যতেষ্ট নয়, তবে দরকার আছে।সাথে আরও দরকার একে অপরের কপালে হাত রাখা, একে অপরের হাত ধরা এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করা চুমা খাওয়া।কথাটি আঁতকে উঠার মতো।না এটাই বাস্তবতা হওয়া উচিত। তাহলে একে অপরের প্রতি ভালবাসা বাড়বে।অনেক দম্পতি বিয়ের কুড়ি বছর পর একে অপকে চুমা খেতে চায় না। পুরুষ চুমা খেতে চাইলে বলে ঢং করো না। না এটা ঠিক না । নারী পুরুষ উভয়েরই এগিয়ে আসা উচিত তাহলে ভালবাসা অটুট থাকবে।নারীর এ বিষয়ে প্রাচীনকাল থেকে প্যাসিভ ভূমিকা হিসাবে সমাজ নির্ধারন করেছে।নারীরা এগিয়ে আসলে বা একটিভ হয়ে উঠলে সেটি নির্লজ্জতা বলে অভিহিত হবে, বিধায় অনেক নারী নিশ্চুপ থাকে।সেক্সের পুরো বিষয়টা পুরুষের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে।বিষয়টা মনে হয় ঠিক না।

      ভালবাসার ক্ষেত্রে নারীর ধারনা পাল্টাতে হবে।কারন শরীর পরিবর্তিত হয়।পুরুষের শরীরের ফাংশন এবং নারীর শরীরের ফাংশন এক নয়।এটি বায়োলজিক্যাল। একজন নারীকে জাগিয়ে তুললে সেটিা সময়কাল দীর্ঘ হতে পারে।শুধু তাই নয়, নারীর যৌন উপভোগের দিকও মালটিপল।কিন্তু পুরুষের শরীর সে ভাবে গঠিত নয়।তার দরকার হয় স্টিমুলেন্স।এ স্টিমুলেন্স যেমন মনের তেমনি শরীরের। তারুন্যে যেমন সে জেগে উঠতে পারে মুহুর্তে, কিন্তু সামান্য বয়সের ছায়া পড়লে সেটি নাও হতে পারে।আর সেজন্য সে ইমপোটেল্ট সেটি কিছুতেই নয়।যৌন সম্পর্ক স্থাপনে নারী-পুরুষ দু’জনের সমান সক্রিয়তা ভীষন জরুরী।নারী যদি মনে করে যে, বিষয়টির দ্বায়িত্ব শুধু পুরুষের তাহলে দেখা যাচ্ছে পুরুষ অনেক সময় ব্যর্থ হচ্ছে এবং সে অভিযুক্ত হচ্ছে। যা মানসিক ভাবে তাকে হীনমন্য করে তুলছে।বিষয়টি এক সময় দৈনন্দিন কলহ হিসাবে পরিনত হয়ে সেক্স লাইফ শেষ করে দিচ্ছে। তাই সেক্স পার্টনার হিসাবে নারী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে।

       ভালবাসা হচ্ছে দু’টি মন এবং দু’টি শরীরের মিশ্রন।দু’জনের পারটিসিপেশনের ভিত্তিতে একটি সফল ভালবাসা গড়ে উঠে। সেখানে যার যখন যে হেলপ দরকার তা করা জরুরী। যেহেতু পুরুষের যৌন উত্তেজনা এবং নারীর যৌন উত্তেজনা দৃশ্যমানতা এক নয়, সেহেতু এ ক্ষেত্রে পুরুষকে তৈরী করতে নারীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।যদি একজন নারী তার সফল ভূমিকা রাখতে পারে তাহলে তাদের ভালবাসা দীর্ঘস্থায়ী হয়। মনে রাখবেন হৃদয় ছাড়া অন্যের শরীর নিজের হয় না, আবার শরীর ছাড়া হৃদয়ের অংশ হয়ে উঠা যায় না।

Post a Comment

0 Comments