শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

মানুষ মানুষের জন্য

অসহায় মানুষ

অসহায় মানুষ

মানুষ মানুষের জন্য, মানুষ সবার জন্য। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ কি না করতে পারে - মানুষই পারে মানুষের উপকার করতে, আবার মানুষই পারে মানুষের অপকার করতে।কিন্তু মানুষের ধর্ম হতে হবে মানুষের উপকার করা। যাতে আপনার দ্বারা দশ জনের উপকার হয়। মানুষের ধর্ম যেন এমন না হয় যে, 
১. ডাক্তার চায় মানুষ অসুখে পড়ুক।
২. উকিল চায় মানুষ বেকায়দায় পড়ুক।
৩. পুলিশ চায় মানুষ বেআইনি কাজ করুক।
৪. মুচি চায় মানুষের জুতা ছিড়ুক।
আর চোর চায় আপনি ধনী হোন, আর নাক ডেকে ঘুমান। তাহলে চোরই আপনার বন্ধু। কি বলেন ? কিন্তু না চোর আপনার প্রকৃত বন্ধু নয়। চোর সুযোগ পেলে আপনাকে ছাড়বে না।মানুষের ধর্ম এ গুলো নয়। মানুষের ধর্ম হচ্ছে - মানুষের ক্ষতি চাওয়া নয়, মানুষের উপকার চাওয়া।

তিনটি জিনিস মানুষকে ধ্বংস করে ঃ ১. হিংসা  ২. অহংকার  ৩. পাপ ।
তিনটি জিনিস মানুষ ফিরাতে পারে না ঃ ১. কথা  ২. আত্তা  ৩. বন্দুকের গুলি ।
তিনটি জিনিস মৃত্যুর পর মানুষের উপকারে আসে ঃ ১. সু-সন্তান  ২. ভাল কাজ  ৩. শিক্ষা ।

আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি জীবের মধ্যে মানুষকে শ্রেষ্ঠজীব তথা আশরাফুল মাখলুকাত বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা প্রবাহ দেখে প্রতীয়মান হয় আমরা পশুর চেয়ে নিকৃষ্টতম। উদাহরন স্বরুপ বলা যায় কোন বাড়ীতে মনিবের একটি পোষা কুকুর আছে। দিনের পর দিন যদি কুকুরটিকে অভূক্ত রাখা হয়, তবুও মনিবের বাড়ীতে অপরিচিত লোক বা চোর আসলে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করে। কিন্তু আমরা মানুষ হয়েও মানুষের ভাল চাই না।কারো স্বার্থের হানি হলে বড় ধরনের ক্ষতি করতেও দ্বিধাবোধ করে না।আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব  হয়েও অনেক সময়ে পশুর থেকে নিকৃষ্ট কাজ করছি।

কাউকে রাষ্ট্রীয়, জাতীয় বা সামরিক স্বার্থ ব্যতীত হত্যা করা ইসলামে পৈশাচিক ও ঘৃন্য কাজ।ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক কেবলমাত্র  অন্য কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা যে নিষিদ্ধ তা নয়, বরং নিজেকে বা আত্মহত্যা করাও নিষিদ্ধ।কোন অবস্থায় নিজেকে ধ্বংস করা যাবে না। আত্মহত্যা নিষিদ্ধকরন সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে বক্তব্য নিম্নরুপ- পবিত্র কুরআনের সূরায়ে নিসায় মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না।’ সূরায়ে বাকারায় আল্লাহ আরো বলেন. “তোমরা নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের সন্মুখীন কর না”। সূরা নিসায় আরো বলা হয়েছে, ’তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না।নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর দয়লু’। পবিত্র কুরআনের উপর্যুক্ত আয়াত তিনটি থেকে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। রাসুল (স:) এর হাদিস থেকে আত্মহত্যার নিষিদ্ধতার বিষয়টি আরো বেশি পরিস্কার হয়ে উঠে। এ ধরনের লোকেরা চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। সে সম্পর্কে মহানবী (স:) বলেন, যে ব্যাক্তি পাহারের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, দোজখে বসেও সে অনবরত উচ্চ স্থান থেকে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের মধ্যে বসেও অনন্তকাল বিষপান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে. সে জাহান্নামের আগুনে বসে অনন্তকাল ধরে সেই অস্ত্র দিয়ে নিজেকে কোপাতে থাকবে।তাই আত্মহত্যার মত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।মনে রাখুন, মানষ্য সত্য.মানুষ্য কর্ম , মানুষ্য ধর্ম তাহার উপরে নাই। মানুষকে ভালবাসলে আল্লাহ তাকে ভালবাসে।তাই মানুষের কল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন।

মানুষকে ভালবাসুন, তবেই মানুষ আপনাকে ভালবাসবে। অসহায় গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ান, ওদের মুখে একটি  হাসি ফুটান। দেখবেন ওরাও আপনাকে ভালবাসবে।কিছু ‍কিছু মানুষ সত্যিই অসহায়, তাদের ভাললাগা-মন্দলাগা, ব্যথা বেদনা গুলো বলার মত কেউ নেই । ওদের পাশে দাঁড়ান, আল্লাহ আপনাকে ভালবাসবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের মানুষের সাথে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মাত্রার উদার মহানুভবতার ভিত্তিতে পারস্পারিক সম্পর্ক সৃষ্টি ইসলামের একটি সার্বজনীন নীতি।নিজের পরিমন্ডলকে সোচ্চার করে সকল প্রকার অন্যায় ও দুর্নীতি বিরোধী কর্মকান্ডের আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।অর্জন করতে হবে মানব প্রীতির গুন।তবেই আমরা মানুষ হিসাবে মানুষ মানুষের জন্য উপকারে আসবো।

Post a Comment

0 Comments