শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

ডেঙ্গু একটি আতংকের নাম

ডেঙ্গু মূলত: একটি মশা বাহিত রোগের নাম। যা এডিশ মশা কর্তৃক মানুষের শরীরে ছড়ায়। এডিশ মশা কামড়ালে ডেঙ্গু রোগ হয়। এ রোগ বাংলাদেশে প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।যা মানুষের মাঝে এক আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে।তাই বলা হচ্ছে ডেঙ্গু একটি আতংকের নাম।

ডেঙ্গু মশা

ডেঙ্গু মশা

ডেঙ্গু রোগের লক্ষন ঃ

বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগে অনেক মানুষ মারা গেছে। এদের মধ্যে সাধারন মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র, নার্স এবং ডাক্তারও মারা গেছে।স্বাভাবিক ভাবেই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদবেগ তৈরী হয়েছে। সাধারনত: এডিশ মশা কামড়ালে যে রোগ হয়, তাকে ডেঙ্গু রোগ বলা হয়। ডেঙ্গু রোগের লক্ষন হচ্ছে- জ্বর, যা শরীরে ১০১ ডিগ্রী থেকে ১০৩ বা ১০৪ ডিগ্রী পর্যন্ত তাপমাত্রা থাকতে পারে।জ্বর একটানা থাকতে পারে আবার জ্বর ছেড়ে যেয়ে পুনরায় আসতে পারে। এর সাথে শরীর ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব, চোখের পিছনে ব্যাথা এবং চামড়ায় র‌্যাশ বা লালচে দাগ হতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ হচ্ছে, স্বাভাবিক জ্বর হলেও তা পরীক্ষা করতে হবে তা ডেঙ্গু কি না । ডেঙ্গু একাধিক বার হতে পারে তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

ডেঙ্গুকে ভাইরাস জনিত রোগ বলা হয়। ডেঙ্গু রোগের জীবানুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোন জীবানুবাহী এডিশ মশা কামড়ালে সেই মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবানুবাহী মশায় পরিনত হয়। ভাইরাস রোগের মত এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গুে রোগ ছড়িয়ে থাকে।

ডেঙ্গু হলে কি করনীয় ঃ

ডেঙ্গু হলে যথেষ্ট পরিমান পানি , শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার গ্রহন করতে হবে।খেতে না পারলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যাথার ঔষধ কোনক্রমেই খাওয়ানো যাবে না।এতে রক্তক্ষরনের ঝুকি বাড়বে।জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছিয়ে ‍দিবেন।ডেঙ্গু হলে পুর্ন বিশ্রামে থাকতে হবে।কোন প্রকার লাফ-ঝাপ বা দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না। কোন রকম পরিশ্রমের কাজ করা যাবে না।পরিপুর্ন বিশ্রামে থাকতে হবে।

চিকিৎসার পরামর্শ ঃ

 ডেঙ্গু রোগের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষন অনুযায়ী ডাক্তারগন চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তবে পরামর্শ হলো-
১. রোগীকে সম্পূর্ন বিশ্রামে রাখুন ।
২. প্রচুর পরিমান পানি পান করান।
৩. স্বভাবিক তাপমাত্রায় পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বার বার মুছিয়ে দিন।
৪. প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে।
৫. ডাক্তারের পরামর্শে ব্যাথা নাশক ঔষধ ‍দিতে হবে।
৬. রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এ জাতীয় কোন ঔষধ খাওয়ানো যাবে না। অবশ্য অবশ্যই মনে রাখবেন। কারন ইহা মৃত্যুর কারন হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগ বা জ্বর প্রতিরোধের উপায় ঃ

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিশ মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যাতে কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। এডিশ মশা ডিম পারার উপযোগী স্থান গুলো পরিস্কার করতে হবে এবং একই সাথে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।মনে রাখবেন, আপনার আশে পাশে বা এলাকায় এডিশ মশার লার্ভা যেন পাওয়া না যায়।কারন এই লার্ভা থেকেই এডিশ মশার জন্ম হয়। সে জন্য বাড়ীর আশেপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।যেহেতু এডিশ মশা এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে।তাই ফূলদানী, অব্যবহৃত কৌটা,  ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘরের বাথ রুম, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনারের নীচে, ফুলের টবে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।এডিশ মশা সাধারনত সকাল ও ‍সন্ধায় কামড়ায়।তবে দিনের অন্য কোন সময়ও কামড়াতে পারে।তাই দিনের বেলায় মশারী টাঙিয়ে ঘুমান। ঘরের দরজা- জানালায় নেট লাগান। 
বাচ্চাকে যারা স্কুলে পাঠান, তাদের হাফপ্যান্ট না পড়িয়ে ফুলপ্যান্ট পড়িয়ে বা পায়জামা পড়িয়ে স্কুলে পাঠান। নিজেও পুরা শরীর যাতে ঢাকা থাকে এমন পোষাক পরিধান করে বাহিরে বের হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারীর মধ্যে রাখতে হবে। কারন ঐ রোগী থেকেও মশা বাহিত রোগ ছড়াতে পারে। মশক নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।


 ডেঙ্গু রোগ প্রতিকারের জন্য বর্তমান পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন নেই। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিশ মশার বিস্তার রোধ এবং মশা যেন না কামড়াতে পারে তার ব্যবস্থা করা। ডেঙ্গু জ্বর সাধারনত ৪ থেকে ৭ ‍দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যায়। তাই আতংকিত হওয়ার কিছুই নাই। ডেঙ্গু রোগীকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমান পানি, লেবু এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।সারা শরীর পানি দিয়ে মুছিয়ে ‍দিন । প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করুন।

Post a Comment

0 Comments