শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads
                                                                ‘প্রিয় বাংলাদেশ’                                                                   

বাঙালী জাতি সংকর জাতি

বহিরাগত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শারীরিক ও সংস্কৃতির সম্মেলনে আজকের বাঙালী জাতির জন্ম।অধ্যাপক হারবার্ট বিজলি বাঙালীর নৃতাত্তিক পরিচয় ‍দিয়েছেন এবং বলেছেন, বাঙালী জাতি সংকর জাতি।বাংলাদেশের অধিবাসীরা প্রধানত বহিরাগত এবং এদেশ বাসীর দৈহিক গড়নে নানা গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান।সুপ্রাচীন কাল থেকে এ অঞ্চলে বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন ত্বাত্তিক জনগোষ্ঠীর আগমন ঘটেছে। প্রশ্ন হচ্ছে সংকর জাতি কাকে বলে ? - যে জাতি একাধিক জাতির সংমিশ্রনে গঠিত তাই সংকর জাতি। একাধিক জাতির সংমিশ্রন আবার কি ? কিভাবে ঘটে এ মিশ্রন ? এ মিশ্রন ঘটে এক জটিল প্রক্রিয়ায়। বিভিন্ন জাতির ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে শারীরিক মিলনের ফলে জন্ম হয় সন্তান।এক জাতির মেজাজ, গায়ের রং, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক বু্দ্ধিমত্তা, এমন কি বুদ্ধিবিত্তিক গভিরতা ইত্যাদি যখন বিশেষ জৈবিক ক্রিয়ায় মিথিস্কিৃত হয়, তখন জন্ম নেয় এক নতুন জাতি।যার নাম সংকর জাতি।আর পৃথিবীতে একটি মাত্র জাতি সংকর জাতি হিসাবে পরিচিত তার নাম বাঙালী জাতি।তাই বলা হচ্ছে বাঙালী জাতি সংকর জাতি।


sonkor jat

sonkor jat

নৃবিজ্ঞানীদের ধারনা বাঙালী একটি মিশ্র জাতি।পৃথিবীর বহু জাতি বাংলায় অনুপ্রবেশ করেছে, অনেকে আবার বেরিয়েও চলে গেছে তবে পেছনে রেখে গেছে তাদের আগমনের অকাট্য প্রমান।বৃহত্তর বাঙালীর রক্তে মিশ্রিত আছে বহু এবং বিচিত্র সব নরগোষ্ঠীর অস্তিত্ব।দীর্ঘকাল বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বিভিক্ত হয়ে এ আদি মানুষেরা বঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছে।একে অপরের সাথে মিশ্রিত হয়েছে শতকের পর শতকব্যাপী। জাতি ত্বত্তিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর ৪টি প্রধান নরগোষ্ঠী কোন না কোন শাখায় বাঙলায় আগমন ঘটেছে।নরগোষ্ঠী গুলো হলো - নিগ্রীয়, মঙ্গেলীয়, অষ্ট্রেলীয়, ককেশীয়।মনে করা হয় যে, বাঙলায় প্রচীন জন গোষ্ঠীর মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষারাই বেশী। বাংলাদেশের সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী প্রভৃতি আদিবাসী অষ্টিলিয়দের সাথে সম্পৃক্ত।এই আদি জনগোষ্ঠী গুলি দ্বারা নির্মিত সমাজ ও সামাজিক ব্যবস্থার আমল পরিবর্তন ঘটেছে আর্যদের আগমনের পর।বাংলাদেশের জন প্রবাহে মঙ্গোলীয় রক্তের পরিচয় পাওয়া যায়।বাঙালী রক্তে নতুন করে মিশ্রন ঘটে পারস্য তুর্কিস্তানের শক জাতির আগমনের ফলে।বাঙালীর রক্তে বিদেশী মিশ্রন প্রক্রিয়া  প্রাগঔতিহাসিক কালেও সুস্পষ্ট। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এ শংকরত্ব আরো বেগবান হচ্ছে। তাই এক কথায় বাঙালী একটি শংকর জাতি।

বাঙালী সংকর জাতি। বিভিন্ন জাতির মিলন ও সমন্বয়ে বাঙালী জাতি গড়ে উঠেছে। এর মূল কাঠামো সৃষ্টির কাল প্রাগঔতিহাসিক যুগ থেকে মুসলিম অধিকারের পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।বিভিন্ন মনীষীগন মনে করেন- বাঙালী একটি মিশ্র জাতি বা সঙ্কর জাতি।নিচে প্রাক আর্য ও আর্য জনগোষ্ঠীর আলোচনায় প্রতিয়মান হয়।

প্রাক-আর্য জনগোষ্ঠী ঃ

১. নিগ্রীয় ঃ ইতিহাসবিদদের মতে এই অঞ্চলে প্রথম আসে খর্বকায় নিগ্রোপ্রতিম মানুষ। আফ্রিকা থেকে আরব উপদ্বীপ অতিক্রম করে পারস্য উপকূল বেয়ে ধীরে ধীরে এই মানুষেরা বাংলা ভূখন্ডে এসে বসতি স্থাপন করে।
২.অষ্ট্রিক: এর পর আসে অষ্ট্রিকরা। অস্ট্রিক জাতি থেকে বাঙালী জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ তাদের ’নিষাদ জাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে আসাম হয়ে তারা বাঙলায় প্রবেশ করে এবং নিগ্রোদের উৎখাত করেন।
৩. দ্রাবিড় : অষ্টি্ক জাতির পর দ্রাবিড় জাতি এদেশে আসে এর্ং সভ্যতার তারা উন্নততর বলে তারা অষ্টিক জাতিকে গ্রাস করে।
৪. নার্ডিক ও মঙ্গোলীয় : এর পর আসে নার্ডিক ও মোঙ্গোলীয়রা।গারো, কোচ, ত্রিপুরা , চাকমা প্রভৃতি এই গোষ্ঠীভূক্ত। এরা বাংলাদেশের রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিং, ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্রগ্রাম অঞ্চলে বিরাজমান।এছাড়া শিলচর, আসাম, কুচবিহারে রয়েছে।

আর্য জনগোষ্ঠী ঃ

ঔতিহাসিক কালে এসেছে পারসিক, মেসডোনীয়, গ্রীক, শক, হুন, তুর্কী , আফগান, মোগল, পুর্তগীজ আর্মেনীয়, ইংরেজ, পাকিস্তানীরা। এই প্রাক আর্য জনগোষ্ঠী ও আর্য জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রনে আজকের বাঙালী জাতি গড়ে উঠেছে।

অষ্টিক গোত্রের মানুষের মধ্য ‍দিয়েই বাংলার আদি মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। এর পর হাজার হাজার বছর ধরে নানা জাতির মিলন মেলা ঘটেছে বাংলায়। বাংলা দখল করতে এসেছে অনেক বিদেশী শক্তি। বিভিন্ন দেশ থেকে কেউ এসেছে বানিজ্য করতে, কেউ এসেছে ধর্ম প্রচার করতে । ফলে স্থানীয় অনেক মানুষের সঙ্গে এদের বিয়েশাদীর সম্পর্ক হয়েছে।এভাবে স্থানীয়দের সাথে বহিরাগতদের সাথে সম্পর্কের ফলে সংকর জাতির সৃষ্টি হয়েছে।তাই বাঙালী জাতি একটি সংকর জাতি।


Post a Comment

0 Comments