শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

মোবাইল ফোনের ইতিকথা

<scriptdata-cfasync="false"src="//ds88pc0kw6cvc.cloudfront.net/?kcpsd=848270"></script>

মোবাইল ফোন :

মোবাইল অর্থ ভ্রাম্যমান বা স্থানান্তরযোগ্য। এই ফোন সহজে যে কোন স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে এর নামকরন করা হয়েছে মোবাইল ফোন। মোবাইল অপারেটররা তাদের সেবা অঞ্চলকে ত্রিভূজ. চতুর্ভজ , পঞ্চভূজ, ষড়ভূজ ইত্যাদি আকারের অনেক গুলো ক্ষেত্রে বা সেলে বিভক্ত করে থাকে। সাধারনত: ষড়ভূজ আকৃতির সেলই বেশী দেখা যায়। তার প্রত্যেকটি অঞ্চলে সেবা সরবরাহ করার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক বা এন্টেনা স্থাপন করা হয়। এ গুলো বিভিন্ন সেলে বিভক্ত করে সেবা প্রদান করা হয়। তাই এটি ’সেলফোন’ নামেও পরিচিত।বর্তমানে মোবাইল ফোন সর্ব শ্রেনীর লোকের হাতে রয়েছে। উচ্চ শ্রেনী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, মজুর, এমন কি ভিখারীর হাতেও মোবাইল ফোন রয়েছে। তাই বলা হচ্ছে সবার প্রিয় ফোন মোবাইল ফোন।




                                         মার্টিন কুপার


মোবাইল ফোনের আবিস্কারক :

মোবাইল ফোনের আবিস্কারক ’মার্র্টিন কুপার’।  তিনি মটরোলা কম্পানীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে কল করতে সমর্থ হন। তাই তাকে মোবাইল ফোনের আবিস্কারক বলা হয়। ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিখ্যাত মটরোলা কোম্পানীর প্রবীন ’জন ফ্রান্সেস মিচেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে নজন দেন। যার মাধ্যমে মুঠোফোন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। জন মিচেল তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে হাত বাড়ান। যা যে কোন জায়গায় থেকে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন । মিচেলের এই কাজের গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি ছিলেন মোটরোলা কম্পানীর গবেষক এবং নির্বাহী প্রধান মার্র্টিন কুপার । এই মার্টিন কুপার প্রথম সেলুলার নেটয়ার্ক এর মাধ্যমে সর্ব প্রথম মুঠোফোন আবিস্কার করেন। বিজ্ঞানের ইতিহাসে নিজের নামটা স্বর্নাক্ষরে লিপিবদ্ধ করেন। প্রথম মুঠোফোনের ওজন ছিল ২.৫ পাউন্ড। এর দৈর্ঘ ‍ছিল ৯ ইঞ্চি , প্রস্ত ছিল ১.৭৫ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ছিল ৫ ইঞ্চি । এটার টক টাইম ছিল ৩০ মিনিট এবং চার্জ থাকত ১০ ঘন্টা। প্রথম বানিজ্যিক মুঠোফোনটি ছিল মটোরলার Dyna TAC 8oooX.

বিশ্বের প্রথম মোবাইল এর মডেল - DynaTAC8000x.
কোম্পানীর নাম - Motorola . মোবাইলটিকে - The brick নামে ডাকা হত।
আবিস্কারক - Martin cooper . ইনি হলেন প্রথম মোবাইল আবিস্কারক ।
সাল - 1984. দাম - 3,995 USD . বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩২৭৫৯০ টাকা ।

মোবাইলের শ্রেনীভেদ :

মোবাইল ফোনকে বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ। হলো -
  • বেসিক মোবাইল ফোন ।
  • মিউজিক্যাল মোবাইল ফোন ।
  • ক্যামেরা মোবাইল ফোন।
  • ভিডিও মোবাইল ফোন ।
  • স্মার্ট মোবাইল ফোন ।
বেসিক মোবাইল ফোন : সাধারনত: তারবিহীন যে ফোন দিয়ে কথা বলা , এস এম এস পাঠানো , ছবি তোলা , গান শোনা , এর যে কোন ব্যবহার করা হয় তাকে বেসিক মোবাইল ফোন বলা হয়। বর্তমানে মোবাইল ফোন চিনে না এমন মানুষ পাওয়া  দুস্কর । মোবাইল একটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র যা দুই প্রান্তের যোগাযোগে সাহায্য করে। এক পথে খবর বা ডাটা যায় আর অন্য পথে খবর বা ডাটা আসে। অর্থাৎ অন্য প্রান্ত থেকে যা বলবে আপনি শুনতে পারবেন, আর আপনি যা বলবেন অন্য প্রান্ত থেকে তা শুনতে পারবে।এটা এক ধরনের ফোন যাকে নিয়ে আপনি যে কোন স্থানে যেতে পারেন।তবে সংযোগ হিসাবে নেটওয়ার্ক থাকা জরুরী।

মিউজিক্যাল মোবাইল ফোন : মিউজক্যাল মোবাইল ফোন হলো যে ফোন দিয়ে গান বা বাদ্য শোনা যায়। বর্তমান যুগে গান বা মিউজিক শুনতে সবাই ভালবাসে। এক শ্রেনীর ছেলে মেয়ে আছে মিউজিকের খুব ভক্ত। রাস্তাঘাটে চলতে গেলেও কানের মধ্যে ইযারফোন দিয়ে চলছে। গান বা মিউজিক শুনতে শুনতে চলছে।

ক্যামেরা মোবাইল ফোন : ক্যামেরা মোবাইল ফোন হলো যে মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলা হয়। প্রতি নিযত আমাদের ছবির প্রয়োজন হয়।তাই এই মোবাইল ফোন দিয়ে আমর সহজে ছবি তোলে কাজে লাগাতে পারি।

ভিডিও মোবাইল ফোন : এই মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও করা হয়। যেমন - বিবাহ অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভিডিও করা হয়। প্রতিনিয়ত যে জিনিস গুলো আমরা স্বরনীয় করে রাখতে চাই তা এই মোবাইলের মাধ্যমে সহজে ভিডিও করতে পারি।

স্মার্ট মোবাইল ফোন : নিম্ন স্তরের মোবাইল ফোনকে ফিচার ফোন বলা হয়। এ ফোন গুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক ভাবে টেলিফোন যোগাযোগ সুবিধা দেয়। আর যে মোবাইল ফোন ইন্টারনেটের সুবিধা দেয় অর্থাৎ কম্পিউটারের মত সেবা প্রদান করে থাকে ,তাদেরকে স্মার্ট মোবাইল ফোন বলে।অনেক মোবাইল ফোনই স্মার্ট ফোন হিসাবে ব্যবহূত হয়ে আসছে।এ মোবাইল ফোন গুলো কথা বলার পাশাপাশি আরো অন্যান্য সুবিধা দেয়। যেমন- ইমেল, এস এম এস বা ক্ষুদেবার্তা প্রেরন ও গ্রহন করা ,ইন্টারনেট সুবিধা, ক্যালকুলেটর সুবিধা, ছবি ও ভিডিও তোলা, গেম খেলা, কথা রেকর্ড করা, সময় দেখা, বিদুৎও গ্যাস বিল দেয়া, টাকা আদান প্রদান করা এবং বাস-ট্রেনের টিকেট বুকিং দেয়ার সুবিধা।স্মার্ট ফোনের আবিস্কারক কে তা সঠিক ভাবে জানা যায়নি। তবে কথিত আছে Kazuhiro Yoshizawa সর্ব প্রথম ১৯৯৯ সালে জাপানে স্মাট ফোন আবিস্কার করেন।


মোবাইল ফোন
মোবাইল ফোন


বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের প্রচলন :

বাংলাদেশে ৯০ দশকে মোবাইল ফোন দেখা যায়। মোবাইল ফোনের ব্যবহার চালু হয় ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে। হাচিসন বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড ঢাকা শহরে AMPS মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের প্রচলন শুরু করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬টি মোবাইল ফোন কোম্পানী আছে। এদের মধ্যে ৫টি জি এস এম মোবাইল এবং একটি সি ডি এ প্রযুক্তির মোবাইল। ইতিমধ্যে ৫টি জি এস এম মোবাইল কোম্পানী ২০১৩ সাল থেকে ৩জি সেবা দেয়া শুরু করেছে। বর্তমানে ৪জি সেবা চালু হয়েছে।মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে একমাত্র টেলিটক এ দেশীয় কোম্পানী। বাংলাদেশে মোবাইল নম্বার গুলো ০১ দিয়ে শুরু। Country কোড সহ নম্বার হলো +৮৮০১.............। কান্ট্রি কোড ছাড়া ১১ ডিজিটের নম্বার ব্যবস্থা চালু আছে। মোবাইল কোম্পানী গুলো হল :
  • গ্রামীন ফোন , কোড- ০১৭ এবং ০১৩
  • বাংলালিংক , কোড - ০১৯ এবং ০১৪ 
  • রবি, কোড - ০১৮ 
  • টেলিটক , কোড - ০১৫
  • এয়ারটেল (বাংলদেশ), কোড - ০১৬
  • সিটিসেল ,  কোড - ০১১

মোবাইল সবার কছে অত্যন্ত প্রিয় জিনিস। মোবাইল হলো নিত্যদিনের সঙ্গী।  মোবাইল ছাড়া অনেকের চলে না।মোবাইলে কথা বলা , ইন্টারনেটে তথ্য পাওয়া , গান শোনা, ছবি তোলা, ভিডিও সহ বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করা যায়।তাই নিত্যদিনের পরম বন্ধু হলো মোবাইল ফোন।

Post a Comment

0 Comments