শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads
                                                                ‘প্রিয় বাংলাদেশ’                                                                   

কালীপূজার কথা

কালীপূজা :

জয় মা কালী, জয় মা, মা, মা। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যেই দেবী কালীর পূজা করা হয়। দেবী কালীর অসংখ্য নামের মধ্যে দক্ষিন, সিদ্ধ, গুন্য, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালী উল্লেখযোগ্য। দেবী কালীর আবির্ভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, দেবাসুরের যুদ্ধে পরাজিত দেবতাদের প্রার্থনায় আদ্যাশক্তি ভগবতি পার্বতীর দেহ কোষ থেকে দেবী কৌষিকী আবির্ভূত হন। তখন ভগবতি দেবী কৃষ্ণ বর্ন ধারন করেন বলে তার নাম কালী বা কালিকা। তিনি শুন্ড - নিশুন্ড নামে দুেই দানবকে বধ করেন। তাদের দুই চেলা চন্ড ও মন্ডকে বধ করায় দেবীর এক নাম চামুন্ডা। বর্ণিত আছে, বঙ্গদেশে দক্ষিন কালিকার পূজা প্রবর্তন করেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ আনুমানিক ১৫ শ - ১৬ শ শতকে। মতান্তরে ১৭৭৭ খৃ: কালীনার্থ রচিত “শামা সপর্যাবিধি” তে এই পূজার সর্বপ্রথম তথ্য পাওয়া যায়। তবে বঙ্গে কালীপূজার নিশ্চিত প্রমান পাওয়া যায় নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সময় থেকে (১৭১০ - ১৭৮৩)।


কালী

কালী

দীপান্বিতা কালীপূজা :

দীপান্বিতা কালীপূজা সাড়ম্বরে আলোকসজ্জাসহ ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কালীপূজায় সাধারনত: পাঁঠা, ভেড়া কিন্বা মহিষ বলি দেয়া হয়। বিশ্বসারতন্ত্র মতে, গুহ্যকালী গোধামাংসে প্রীত হন। ডাকাতদের নরবলিসহ কালীপূজার কথাও শোনা যায়। কারো কারো মতে, কালী আদিতে ছিলেন অনার্যদেবী। তাদের যুক্তি হলো যে, কালীর রূপ কল্পনা ও পরিবেশ অনার্যোচিত। তাছাড়া অধিকাংশ দেবদেবীর পূজা হয় দিনে কিন্তু কালীর পূজা হয় রাতে। সন্ভবত লুন্ঠন ও দস্যুতা পরায়ন আদিম অধিবাসিরা রাত্রির অন্ধকারে লোকচক্ষুর অন্তরালে গুপ্ত বাসস্থানে এ পূজা করত। কালক্রমে কালী আর্যদেবী রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

রূপভেদ :

তন্ত্র পূরানে দেবী কালীর একাধিক রূপভেদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তোড়লতন্ত্র অনুসারে কালী আট প্রকার যথা : দক্ষিনকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালিকা, চামন্ডকালিকা, শ্মশাকালিকা ও মহাকালী। এছাড়া মহাকাল সংহিতার অনুস্মতি প্রকরনে ৯ প্রকার কালীর কথা বলা হয়েছে এবং অভিনব গুপ্তের তন্ত্রলোক ও তন্ত্রসার গ্রন্থদ্বয়ে কালীর ১৩ টি রূপের উল্লেখ আছে।জয়দ্রথ যামল গ্রন্থে কালীর যে, রূপ গুলির নাম পাওয়া যায়, সে গুলো হলো: ডন্বরকালী, রক্ষাকালী, ইন্দবর কালিকা, ধনদকালিকা, রমনীকালিকা, ঈশানকালিকা, জীবকালী, বীর্য কালী, প্রজ্ঞাকালী ও সপ্তার্নকালী।


কালীপূজার মন্ত্র :

প্রণাম মন্ত্র :

 “ জয়ন্তী মঙ্গলা কালীভদ্রাকালী কপালিনী দূগা শিবা সামাধ্যতীসাহা সুধা নমস্তুতে। ওঁ নম: শিবায় শান্তায় কারনত্রয়হেতবে, নিবেদয়ামি চাত্মানংত্বং গতি:পরমেশ্বর:। ওঁ কালি কালি মহাকালিকে পাপহারিনি দেবী নারায়নী নমস্তুতে, মহিষাঘ্নি মহামায়ে চামন্ডে মন্ডুমালিনী , আয়ুরোগয় বিজয়ং দেহি দেবী নমস্তুতে। এষ পুস্পান্জলি: শ্রীমদ্দ - দক্ষিনকালিকায়ৈ নম:।”

ধ্যান মন্ত্র : 

“ ওঁ শাবারূঢ়াং মহাভীমাং ঘোরদংস্টং বরপ্রদায়।হাস্যযুক্তাং ত্রিনেত্রাঞ্চ কপালকর্ত্তৃকাক রাম। মুক্তাকেশিং লোলজিহ্বাং পিবন্তীং রুধিরং মুহু। চতুবর্নাহু যুতাং দেবীং বরাভয়করাং স্মরেৎ।”

জপের মন্ত্র :  ক্রীং ক্রীং ক্রীং হুং হুং হ্রীং হ্রীং দক্ষিন কালিকে 
                    ক্রীং ক্রীং হুং হুং হুং স্বাহা 

পূজা মন্ত্র : 

এষ গন্ধ ওঁ গনেশায় নম:, এতৎ সচন্দন পুষ্পম ওঁ গনেশায় নম:, এষ ধুপ ওঁ গনেশায় নম:, এষ দীপ ও গনেষায় নম:, এতন নৈবেদ্য ওঁ গনেশায় নম:। জপ: ওঁ গনেশায় নম:, এষ গন্ধ ওঁ শ্রী সূর্যায় নম:, এতৎ সচন্দনপুস্পম ওঁ শ্রী সূর্যায় নম:, এষ ধুপ ওঁ শ্রীসূর্যা নম:, এষ দীপ ওঁ শ্রী সূর্যায় নম:, এতন নৈবেদ্যম ওঁ শ্রী সূর্যায় নম: ।

কালীপূজা বা শ্যামা পূজার উপকরন :

সিন্দুর, গুরু পূজক ও তন্ত্রধারকের বরন ৩, বরনাংগুরিয়ক ৩, বরন ডালা, যজ্ঞ পবিত, ৬, তিল, হরিতকি, পঞ্চরত্ন, পঞ্চ পল্লব, ঘট, এক সরা আতপ চাল, কুন্ডুহারিন, তকাঠা ১, দর্পন ১, সশিব ডাব ১, তীর ৪, ঘটাচ্ছাদন গামচা ১, শ্যামা পূজার শাটি ১, মহাকালের ধুতি ১, বিষ্ণু পুজার ধুতি ১, আশানাঙ্গুরিয়ক ৩, মধু পবক বাটি ৩, দধি, মধু, চিনি, পুস্প, দুধা, তলসি, বিল্ল পত্র মাল্য ৩, আলা ১. ঘট ১, লহা ১, নথ ১, শঙ্খ ২, সিন্দুরচুব্রি ১, বালি, কাস্ট খরকে ১, গ্যাব ঘৃত আধাসের, হমের বিল্ল পত্র ১০৮ বা ২৮ , ভগের দ্রব্যাদি, কর্পূর, পান, পানের মসলা, ছাগ বলি, আরতি দক্ষিনা  ইত্যাদি।


পুষ্পাঞ্জলি :

কালী পুজায় পুষ্পাঞ্জলি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে ধ্যান এবং আবহন দ্বারা দেবীর প্রান  প্রতিষ্ঠা হলে দেবী কালীকে তুষ্ট করার পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়।এ ক্ষেত্রে পাঁচটি লাল জবা ফুল দেবীর চরনে অর্পন করা হয় একটি বিশেষ মন্ত্রের মাধ্যমে। এরপর একে একে চন্দন, পুষ্প, দীপ, ধুপ ও নৈবেদ্যে দ্বারা দেবী বন্দনা করা হয়ে থাকে।প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা মূদ্রা ও মন্ত্র উচ্চারন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ন। এরপর একে একে গন্ধ, অক্ষত এবং পুজা গ্রহন করা হেতু দেবী ভগবতী বা দেবী কালীকে বারংবার প্রনাম জানানো হযে থাকে।

কালীপূজার কথা হলো সনাতনী ধর্মাবলন্বীদের গৃহ বা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীপ্রতিমার নিত্যপূজা করা হয়। এছাড়াও বিশেষ বিশেষ তিথিতেও কালীপূজার বিধান রয়েছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা, মাঘ মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীতে ফলহারিনী কালীপূজা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।এছাড়াও অন্যান্য অমাবস্যায় বা বিশেষ কোন কামনা পুরুনের উদ্দেশ্যেও কালীপূজা করা হয়।

Post a Comment

0 Comments