শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

অনলাইনে অর্থ ইনকামের উপায়

অনলাইনে ইনকাম :

অনলাইন জগৎ একটি বিশাল জগৎ। অনলাইনে আমাদের জীবনের প্রতিটি সেক্টর সম্পর্কে তথ্যবহুল বিষয়ে বিশদ বর্ননা সম্বলিত তথ্য বিদ্যমান।অনলাইনে বিভিন্ন সার্চ ইন্জিন রয়েছে। এই সার্চ ইন্জিন গুলোতে কোন বিষয় লিখে সার্চ দিলে আপনি সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।সার্চ ইন্জিন গুলো হলো - গুগুল, ইয়াহু, বিং, ইয়ানডেক্স সহ অনেক সার্চ ইন্জিন রয়েছে। এগুলোতে কোন বিষয় লিখে সার্চ দিলে আপনি আপনার কাংখিত তথ্য পেয়ে যাবেন।অনলাইনের কথা শুনলেই আমাদের মনে একটা প্রশ্ন জাগে- তা হলো অনলাইনে অর্থ ইনকামের বিষয়।অনলাইনে অর্থ ইনকামের শত শত বিষয় রয়েছে।সে গুলো সম্পর্কে আপনার ভাল ধারনা থাকলে আপনি অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।অনলাইনে অর্থ ইনকাম স্বপ্ন নয় বরং বাস্তব।বর্তমানে অনলাইনে অর্থ আয়ের ব্যপারটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সঠিক গাইড লাইনের অভাবে অনেকে অর্থ ইনকাম করতে পারছেন না।আজ আমি অনলাইনে অর্থ ইনকামের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করব।এ গুলো থেকে আপনি ঘরে বসে প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন। তবে আপনাকে প্রচুর সময় ও ধর্য্যের পরীক্ষা দিতে হবে।


Online Income
Online Income


১. ইউটিউব থেকে আয় :

ইউটিউব সম্পর্কে সবারই কম বেশি ধারনা আছে। আমরা জানি যে ইউটিউবে ভিডিও দেখানো হয়।এই ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আপনি অর্থ ইনকাম করতে পারেন।অনলাইনে যতগুলো পথ আছে তার মধ্যে স্থায়ী এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ইউটিউব থেকে অর্থ আয়। ইউটিউব হলো ভিডিও শিয়ারিং প্লাটফর্ম। এখানে কিছু মুল্যবান ভিডিও আপলোড করে বসে বসে আয় করতে পারেন। ভিডিও বানানো খুব কঠিন কাজ নয়। অনেকে তো নিজের পোষা প্রাণীর ভিডিও দেখিয়ে বা খেলনা দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে।অনেকে মনে করে ইউটিউব থেকে আয় করতে গেলে অনেক টাকা ব্যয় করতে হবে। কিন্তু না এ ধারনা ভূল। আজকে যারা সফল ইউটিউবার তারা প্রায় সবাই প্রথমে বিনা খরচেই শুরু করেছেন। প্রথমেই স্টুডিও দিয়ে না শুরু করে আপাতত স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও তৈরী করে কাজ শুরু করুন।একটি ক্যাটাগরি নির্ধারন করে তার উপরে ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবে পোষ্ট করুন। প্রথমে ইউটিউবে একটি একাউন্ট খুলুন। তারপর ভিডিও আপলোড শুরু করুন। যত ভিউ বাড়বে তত ইনকাম হবে।

২. ব্লগ থেকে আয় :

ইংরেজী weblog  শব্দ থেকে blog  শব্দটি এসেছে। blog শব্দের বাংলা অর্থ হলো দিনলিপি বা পত্রিকা।যেখানে লেখালেখি করা হয়।আর এই ব্লগে যারা পোষ্ট করেন তাদেরকে বলা হয় ’ব্লগার’।এক কথায় বলা যায় ব্লগে যারা লেখালেখি করেন তারাই ব্লগার।যদি আপনার কোন বিষয়ে লেখালেখি করার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনি ব্লগ থেকে আয় করেতে পারবেন। হয়তো বলবেন কিভাবে ? আমি বলব আপনি সুন্দর সুন্দর লেখা পোষ্ট করতে থাকুন।আপনার এই লেখা পড়ার জন্য প্রচুর ভিজিটর আপনার ব্লগে আসবে। ভিজিটর আসা মানে আপনার সফলতার পথ খুলো যাওয়া।যখন আপনার ব্লগে প্রচুর ভিজিটর আসবে তথন আপনি যে কোন এডসেন্স বা এড মিডিয়া গুলোতে আবেদন করুন।যখন এডসেন্স বা এড মিডিয়া আপনার আবেদন এপ্রুভ করবে তখন আপনি আপনার ব্লগ সাইটে এড বসিয়ে আয় করতে পারবেন।উল্লেখ্য যে সবার আগে আপনাকে একটি নিজের ব্লগ সাইট খুলতে হবে। তারপর লেখা পোষ্ট করতে হবে।ভিজিটর আসা শুর হলে এড মিডিয়াতে সাইট এপ্রুভ করে এড বসতে হবে।তবেই ইনকাম শুরু হবে।
ব্লগিং এর সবচেয়ে ভাল দিক হলো যে, আপনি যদি আপনার ব্লগটাকে একটা ভাল লেভেলে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।তবে কথা হচ্ছে যে, আপনি যে বিষয়ের উপর ব্লগ তৈরী করবেন সে বিষয়ের উপর আপনার ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে।তবেই আপনি ভাল মানের কন্টেন্ট তৈরী করতে পারবেন।ভাল মানের কন্টেন্ট পোষ্ট করলে ভিজিটর বাড়বে। ভিজিটর বাড়া মানে আপনার আয়ের পথ খুলে যাওয়া। তাই একটি ব্লগ তৈরী করুন এবং আপনার লেখা পোষ্ট করুন। আপনার ইনকাম হবেই ইনশাল্লাহ।

৩. আটিকেল লিখে আয় :

আপনার যদি কোন বিষয়ের উপর লেখা-লেখি করতে ভালো লাগে তাহলে আপনার এই লেখা অনলাইনের আয়ের একটি পথ হিসেবে পরিগনিত হতে পারে।আপনি ইচ্ছা করলে একটি সুন্দর আর্টিকেল লিখে পোষ্ট করলে সেখান থেকে আয় আসবে।হয়তো ভাবছেন আমি ইংরেজী জানিনা, কোথায় পোষ্ট করবো বা কোথায় বিক্রি করবে।আপনি ইচ্ছা করলে বাংলায় আর্টিকেল লিখে ট্রেক ট্রেইনিতে জমা দিতে পারেন।তারা এপ্রুভ করলে আপনাকে একটা সন্মান জনক সন্মানী দিবে যা আপনাকে আর্টিকেল লিখতে উৎসাহিত করবে।

৪. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় :

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানির পন্য আপনার নিজের কোন ব্লগ সাইট বা ওয়েব সাইটে বা ইউটিউবে প্রমট করে বিক্রয় করে দেওয়ার ফলে যে কমিশর দেয় বা কমিশন পান তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে আপনার নিজের কোন ব্লগ সাইট বা ওয়েব সাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে।তবেই এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন। আপনার ব্লগে বা সাইটে কোন কোম্পানীর লিং বসাতে হবে। সেই লিংকে গিয়ে সেই সাইট থেকে পন্য ক্রয় করলে সেখান থেকে আপনি একটা নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পাবেন।এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য আমাজান, আলিবাব সহ অনেক সাইট আছে।এ ছাড়া বাংলাদেশেও বর্তমানে এফিলিয়েট সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। তেমনি একটি ই-কমার্স ওয়েব সাইট হলো ’বিডি সপ.কম’।
আরো জানতে ক্লিক করুন

৫. ওয়েব ডিজাইন করে আয় :

ওয়েব ডিজাইন করে আপনি আয় করতে পারেন। ওয়েব ডিজাইন হচ্ছে একটি ওয়েব সাইটে বাহিরের কাজ।ওয়েব সাইট কেমন হবে তার টেমপ্লেট তৈরী করা।এর জন্য আপনাকে জানতে হবে  HTML. CSS, জাভাস্ক্রিপট, জেকুয়েরী, ফার্মওয়ার্ক সহ ইত্যাদি কাজ।বর্তমানে ওয়েব ডিজাইনারের কদর ব্যাপক। আর দিন দিন তা বাড়ছে।বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকের কোডেং জানা থাকে না। তাই ওয়েব সাইট তৈরীতে ওয়েব ডিজাইনারের প্রয়োজন পড়ে।তাছাড়া ওয়েব সাইট নবায়ন করতে ওয়েব ডিজাইনারের প্রয়োজন পড়ে।এই জন্য একজন ডিজাইনারের চাহিদা ব্যাপক।


৬. ওয়েব ডিভলোভমেন্ট থেকে আয় :

ওয়েব ডিভলোভমেন্ট একটি জনপ্রিয় পেশা। এই পেশার উপর অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ওয়েব ডিভলোভমেন্ট হচ্ছে একটি ওয়েব সাইট তৈরী করা থেকে শুরু করে ডিজাইন করা এবং ইন্টারনেটে লাইভ করা পর্যন্ত যে সকল কাজ করতে হয়, সে সকল কাজকে একসাথে ওয়েব ডিভলোভমেন্ট বলা হয়।ওয়েব ডিভলোভমেন্ট একটি বিশাল সেক্টর।এ বিষয় জানতে হলে ওয়েব সাইট তৈরী থেকে শুরু করেHTML,CSS,CSSফার্মওয়ার্ক, জাভাস্কিৃপট, জেকুয়েরী,
PHP, MYSQL, ফার্মওয়ার্ক সহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে।অনলাইনে কাজের মধ্যে ওয়েব ডিভলোভমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এটা সঠিক ভাবে  শিখতে পারলে অনলাইনে নিজেকে সম্রাট বলে মনে হবে।

৭. গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে আয় :

গ্রাফিক্স ডিজাইন হচ্ছে নকশা আঁকা-আঁকির কাজ। গ্রাফিক শব্দটির অর্থ ড্রইং বা রেখা।ডিজাইন শব্দটির অর্থ পরিকল্পনা বা নকশা। সহজ কথায় ড্রইং আকারে নকশা করাকে বুঝায় গ্রাফিক্স ডিজাইন।বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক। ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেসটুন, বিজনিস কার্ড, পোষ্টার সহ অসংখ্য বিষয়ে ডিজাইন করতে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রয়োজন পড়ে।ঘরে বসে অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিক্স ডিজাইন করা হলো সেরা উপায়। যারা এই কাজে দক্ষ তারা বিভিন্ন ডিজাইন তৈরী করে অনলাইনে বিক্রয় করে থাকেন।অনলাইনে একটা নকশাঁ অনেকবার বিক্রয় করা যায়। কোয়ালিটি সম্পূর্ন একটি নকশাঁ থেকে অনেকদিন পর্যন্ত আয় আসতে পারে।অনলাইনে অনেক সাইট আছে যেখানে ডিজইন বিক্রি করা যায়।আপনি যদি একজন দক্ষ ডিজাইনার হতে পারেন, তাহলে সারা জীবনের জন্য আপনার আয়ের পথ খুলে গেল।গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে প্রচুর ইনকাম করা সম্ভব।


৭. ডাটা এন্ট্রি কাজ থেকে আয় :

অনলাইনে যত কাজ আছে তার মধ্যে সহজ কাজ হচ্ছে ডাটা এন্ট্রি কাজ।ডাটা এন্ট্রির কাজে আয়ের পরিমান কম।যাদের কম্পিউটারে  ইন্টারনেট কানেকশন আছে এবং দ্রুতগতির টাইপিং দক্ষতা আছে তারা এই কাজ করতে পারেন।প্রায় সব ফ্রিল্যান্সিং সাইটে এই কাজ পাওয়া যায়। যা সহজে আপনি করতে পারবেন।আয় কম হলেও সহজে কাজ করে আয় করতে পারবেন।

৮. পিটিসি সাইট থেকে আয় :

পিটিসি সাইট হচ্ছে ক্লিক করে আয়। অনেক ওয়েব সাইট আছে তারা আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখা বা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে দেওয়ার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করে থাকে। এ রকম ওয়েব সাইট গুলোকে পিটিসি সাইট বলে।এ সব সাইটে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে, তারপর হোম পেজে ঢুকে তাদের নির্দেশমত লাইক, শেয়ার, ভিডিও দেখা, বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হবে।এ সব সাইটে আয়ের পরিমান খুবই কম।

৯. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আয় :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন - ফেসবুক, টুইটার, স্নেপচেট, ইন্সট্রাগ্রাম থেকেও আয় করা সম্ভব।এখন আর সময় নষ্ট না করে এগুলোতে প্রমট করে আয় করা সম্ভব।অনেক কোম্পানী তাদের প্রচারের জন্য সোসাল মিডিয়া পরিকল্পনাদের অর্থ প্রদান করে থাকে।বিভিন্ন পোষ্ট , ভিডিও ভাইরাল করতে পারলেই অর্থ আসে।অবশ্য এই কাজের জন্য সৃজনশীলতা দরকার। ফ্যান- ফলোয়ার তৈরী সহ প্রচুর প্রাসঙ্গিক বিষয় প্রয়োজন। 


১০. অনুবাদ করে আয় :

বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ করে আয় করা সম্ভব। আপনার ‍যদি ইংরেজী ভাষা সহ ভাষা জ্ঞান সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকে, তরে অনুবাদ করে অর্থ আয় করতে পারেন।অনেক ওয়েব সাইট আছে যেখানে ডকুমেন্টরি অনুবাদ করে অর্থ আয় করতে পারবেন। এছাড়া প্রায় সব ফ্রিল্যান্সিং সাইটে অনুবাদের কাজ পাওয়া যায়।

সর্বপরি কথা হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে কাজ করে অর্থ আয় করা সম্ভব। আপনি যদি উপরের আলোচিত বিষয় গুলোর মধ্যে নুন্যতম একটি বিষয়ে ভাল ভাবে দক্ষ হতে পারেন, তাহলে আপনার আয় হবেই হবে।আশা করি আপনি চেষ্টা করলে সফল হবেন ইনশাল্লাহ্।

Post a Comment

0 Comments