শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে মমতার কবিতা ও ‍দিল্লির ইমামের বক্তব্য

বাবরি মসজিদ :

তিন দিন আগে তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দলের কোর গ্রুপের বৈঠক ডেকে দিদি বলেছিলেন, অযোধ্যা রায় স্পর্শকাতর বিষয়। রায় ঘোষনার পর কেউ যেন তা নিয়ে আলটপকা মুখ না খোলেন। যা বলার তিনিই বলবেন।


Babri Mosjed
Babri Mosjed


শনিবার অযোধ্যা মামলার রায়  ঘোষণার পর দেখা গেল তৃণমূলের নেতারা কথা রেখেছেন। কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।তবে তাৎপর্যপূর্ন হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি।দিনের শেষে দেখা গেল, দিদি একটা কবিতা লিখে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। তাতে ‘অযোধ্যা’, ‘বাবরি মসজিদ’ ‘সুপ্রিম কোর্ট’ এ সব কোনও শব্দের উল্লেখ নেই। কবিতায় মোদ্দা একটা কথা বলা হয়েছে, তা হল - ‘অনেক সময় কথা না বলেও অনেক কথা বলা যায়’।

 শনিবার সকালে অযোধ্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের মোদ্দা অর্থ হল- বিতর্কিত জমি পাবে হিন্দুরাই।মুসলিমরা মসজিদ বানানোর জন্য অন্যত্র জমি পাবে।

সন্দেহ নেই এতে গেরুয়া শিবিরের অভীষ্ট সিদ্ধ হয়েছে। বিপরীতে মুসলিম সংগঠনের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। যেমন, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের আইনজীবী জাফর ইয়াব জিলানি বলেছেন, গোটা রায় নিয়ে তাঁরা সন্তষ্ট নন। আরও চড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন বলেছেন, এই রায়ে তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকেনি। এমনকি মসজিদের জন্য পাঁচ একর জমি দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহন করা ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

“ না বলা ”

অনেক সময় 
কথা না বলেও
অনেক কথা বলা হয়ে যায়।
কিছু বলার থাকে
না বলাটা।
আরো শক্তিশালী বলা।
খিদে পেলে 
খাবার না পেলে 
খিদের ‘ক্ষুধা’ বোঝা যায়।
তেমনি ঘুমের সময় 
ঘুম না পেলে
ঘুমের মর্ম বোঝা যায়।
দাঁত থাকতে 
যেমন দাঁতের মর্ম
মর্মর গাঁথায় লেখা থাকে,
তেমনি কষ্ট পেলে
’কষ্টমর্ম’ প্রতি ছত্রে 
গাঁথা থাকে।
মনের কথা
প্রকাশ না পেলে 
কথা ‘ব্যথার’ উদ্রেক করে,
যা মানবিক দূষন বাড়ায়।
বলা হয়ে গেলে খুলে যায় দ্বার,
কথা কথায় কথা বলে।
আর না বলতে পারাটা
অতীব যন্ত্রনা।
ওটা তো হৃদয়ের শক্তিপেল
জমা থাকে।।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্তিতিতে তৃনমূল কিছুটা প্যাচে্ই পড়েছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালে সংখ্যাগুরুরা খুশি হবেন ঠিকই, কিন্তু তাতে সংখ্যালঘু মানুষের কাছে তা কী বার্তা পাঠাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বড় কথা হল, বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকই তৃণমুলের অন্যতম রাজনৈতিক পুঁজি। তাই রায়কে স্বাগত জানানো তৃণমূলের পক্ষে রাজনৈতিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বইকি। বিশেষ করে যখন মিমের মতো মুসলিম দল বাংলায় পা জমানোর চেষ্টা করছেন।

তা ছাড়া তৃণমূল হয়তো এও বুঝতে পারছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে কোনও বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। করণ,তার পরেও উগ্র হিন্দু ভোট বিজেপি-র দিকেই থাকবে।তুলনায় চুপ থাকলে উদার হিন্দু ভোট এবং সংখ্যালঘু শ্রেণি এই দুই অংশকেই পাশে পাওয়ার আশা থাকবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন, তখন বিজেপি তাঁকে খোঁচা দেওয়ার সুযোগ ছাড়তে চায়নি।রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, কোনও ভাল জিনিস ভাল ভাবে দেখতে পারে না তৃণমূল। তা সে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক বা কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার। কারণ, তৃণমূলের সংখ্যালঘু তোষনের রাজনীতি করার তাগিদ রয়েছে।

বাবরি মসজিদের রায় মেনে নিতে বললেন দিল্লির ইমাম :

ভারতের দিল্লি জামে মসজিদের শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি বাবরি মসজিদ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নিয়ে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক তৈরি করে বাড়াবাড়ি করা উচিত না।

শনিবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহবান জানান।

সৈয়দ আহমেদ বুখারি বলেন, ভারতের মুসলিমরা শান্তি চায়। এরই মধ্যে তারা বলেছেন আদালতের রায় মেনে নেবেন।আমরা রায় মেনে নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে চলা হিন্দু-মুসলিম বিরোধের অবসান হওয়া উচিত।

শনিবার বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অযোধ্যার জমিতে মন্দির নির্মানের নির্দেশ দিয়েছেন্।এই জমির পরিবর্তে মুসলিমরা অযোধ্যার অন্য কোথাও মসজিদ নির্মানের জন্য পাঁচ একর জমি পাবেন।

অযোধ্যার এই স্থানটিকে হিন্দুরা রামের জন্মভূমি হিসাবে পবিত্র মনে করে থাকেন।সেখানে প্রায় চারশ বছর আগে বাবরি মসজিদ নির্মান করা হয়। ১৯৯২ সালে মসজিদটি ভেঙে দেওয় হয়।সে সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

শনিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চ ঐতিহাসিক এ মামলার রায় দেন। (সংগৃহিত)

Post a Comment

0 Comments