শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads

দক্ষ শ্রমিক নেবে জাপান সরকার : প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর, ২০১৯,  ২২: ৪৫ অনলাইন

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে জাপান সরকার :

সিলেটের সার্কিট হাউজে “বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য সচেতনতা” শীর্ষক সম্মেলনে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ২ টি ক্যাটাগরিতে ১৪টি সেক্টরে দক্ষ কর্মী নেবে জাপান সরকার। মন্ত্রী বলেন, লিবিয়া থেকে যারা ফেরত আসছে তারা অবৈধ পথে সেখানে গিয়েছিল। যেহেতু তারা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন, সেহেতু সরকার তাদের সাহায্য করবে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ( আই ও এম) তাদের প্রত্যেককে ১ হাজার ৪ শ ডলার করে সহায়তা প্রদান করবে। তিনি আরো বলেন, যদিও তারা অবৈধ পথে বিদেশ গিয়েছিলো ,তারপরও তারা আমাদের দেশেরই সন্তান, তাই তাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে সরকার।এছাড়া সম্প্রতি সৌদি আরবে নির্যাতিতা ৩৫ নারীর ভিডিও বার্তা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্ধারে সেখানকার হাইকমিশনার কাজ করছে। সরকার এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালংয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার মো: মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক এমদাদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকতা।



Japans Lebar
Japans Lebar

জাপানে শ্রমিকপ্রেরনের সুবর্ন সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের।কোন ধরনের খরচ ছাড়াই দক্ষ শ্রমিক হিসাবে জাপানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ থেকে ১৪টি খাতে ৩ লক্ষ্ ৬১ হাজার ৪০০ বিশেষায়িত দক্ষ শ্রমিক নিবে জাপান সরকার।আর এই কর্মীদের খরচ বহন করবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রবাসীকল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় এবং জাপানের বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, দেশটির জাতীয় পরিকল্পনা এজেন্সির মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, চীন, নেপাল, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ফিলিপিন্স থেকে জনশক্তি নেবে জাপান সরকার।প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব জাহাঙ্গীর আলম জানান, নতুন এই চুক্তির আওতায় দক্ষ শ্রমিক হিসাবে জাপানে যেতে হলে কোনো ধরনের অর্থ খরচ করতে হবে না। তবে অনুমোদিত সংস্থা গুলো থেকে জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে কিছু পরিমান ফি দিতে হবে। তবে পেশার দক্ষাতার পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে ভাষা শেখার বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়া হবে না। পেশাগত দক্ষতা এবং ভাষা শিক্ষা শেষে চুড়ান্ত বাছাই অনুষ্ঠিত হবে জাপান দূতাবাসে। সেখানে তাদের অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে সব ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২০ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকের আসর বসছে জাপানে। এ উপলক্ষে দেশটিতে নতুন নতুন স্থাপনা গড়তে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে লাগবে অনেক নির্মান শ্রমিক। আর এ কাজের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশী শ্রমিকরাও।


জনশক্তি নেবে যে সব খাতে :

জাপান সরকার দু’টি ক্যাটগরিতে ১৪টি সেবা, কৃষি, শিল্প, ও নির্মানখাতে বিশেষ দক্ষ ও জাপানিজ ভাষার পারদর্শী কর্মী নিয়োগ দেবে। এই ১৪টি খাত হলো : নার্সি কেয়ার, রেস্টুরেন্ট, কনস্ট্রাকশন, বিল্ডিং ক্লিনিং, কৃষি, খাবার ও পানীয় শিল্প,সেবা খাত, ম্যাটারিয়ালস প্রেসেসিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্ম যন্ত্রপাতি, জাহাজ নির্মণ শিল্প, মৎস শিল্প, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ তৈরি শিল্প এবং এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড এয়ারক্রাফট মেনটেইনেন্স (এভিয়েশন)।

প্রথম ক্যাটাগরিতে জাপানি ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ন ও নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকলে পরিবার ছাড়া জাপানে পাঁচ বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন। আর দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে যাদের জাপানি ভাষা ও নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা প্রথম ক্যাটাগরির কর্মী থেকে বেশি থাকবে, তারা পরিবারসহ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করার সুয়োগ পাবেন।

ভাষা শিক্ষা :

জাপানে যেতে হলে জাপানি ভাষা শিখতে হবে। মন্ত্রনালয় থেকে জাপানে লোক পাঠানোর অনুমতি পাওয়ার পরই তার নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টারে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষক দ্বারা ভাষা প্রশিক্ষণের ওপর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তিন মাসের কোর্সের জন্য ভর্তি ফি  ১৫ হাজার টাকা। থাকা-খাওয়া মিলিয়ে আরো ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিখতে পারবে না তাদের পরবর্তীতে রিনিউয়াল করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধাারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই একজন শ্রমিক জাপানিজ ভাষার জন্য প্রয়োজনীয় এন-ফোর এবং এন-ফাইভ ভাষা শিখতে হবে।

শারীরিক ফিটনেস :

দক্ষ শ্রমিক হিসাবে জাপানে যেতে হলে শারীরিক ফিটনেস ঠিক থাকতে হবে। বয়স ২০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। স্বাস্থ পরীক্ষার মাধ্যমে কোন ধরনের রোগ আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।চারিত্রিক সনদ ঠিক থাকতে হবে। অর্থাৎ কোন রকম অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

আবেদনের পদ্ধতি :

প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অধীনে জাপানে শ্রমিক পাঠিয়ে থাকে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরো বা বিএমইটি। এছাড়া জাপান সরকারের সাথে হওয়া নতুন জনশক্তি রপ্তানি চুক্তির আওতায় ১১টি সংস্থাকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এদের মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে।

সম্ভাব্য ইনকাম :

সব প্রক্রিয়া শেষ করে জাপানে যেতে পারলে ভালো বেতনে কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের যুন্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ভর করবে কোন শ্রমিক কোন ধরনের কাজে নিয়োগ পাচ্ছে তার ওপর। তবে একজন দক্ষ শ্রমিক হিসাবে জাপানে যাওয়ার পর কাজের ধরন ভেদে প্রতি মাসে বাংলাদেশী টাকায় দেড় থেকে শুরু করে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সর্বপরি কথা হলো কর্মী বাছাইয়ের জন্য খুব শিগগির সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেবে আইএম জাপান।বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের স্থান ও তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিএমইটি কার্যালয় থেকে জানা যাবে দরকারি সব তথ্য। প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী কল্যান ভবনে শিগগিরই  অফিস খোলা হবে আইএম জাপান। সেখান থেকে জানা যাবে কর্মী নির্বাচন, বাছাই ও এ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য। প্রতারনা এড়াতে কারো সাথে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএমইটি।

Post a Comment

0 Comments