শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

ফেসবুক থেকে অর্থ ইনকামের উপায়

ফেসবুক :

ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের মধ্যে একটি অন্যতম মাধ্যম।বর্তমানে ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ লোকের বিচরন ঘটে। এখন আর ফেসবুকে অযথা ক্লিক বা কমেন্ট করে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। আপনি একটু চিন্তা ভাবনা করলে ফেসবুক আপনার আয়ের মাধ্যম হিসাবে পরিগনিত হতে পারে।তাই ফেসবুকে অযথা সময় নষ্ট না করে ইনকাম বা আয়ের চিন্তা করতে পারেন।অনেকে ফেসবুক পেজ তৈরী করে এবং গ্রুপ তৈরী করে ফেসবুক থেকে আয় করছেন।আপনি চাইলেই করতে পারেন।তবে এখন আর পেজ তৈরী করে লাইক বাড়িয়ে তা বিক্রয় করে ইনকামের দিন শেষ।এখন নানা কৌশলে ফেসবুক থেকে অর্থ ইনকাম করা যায়। ঘরে বসে অনলাইনে অর্থ ইনকামের অনেক মাধ্যম আছে।যেমন ব্লগ থেকে অর্থ আয় করা যায় এবং ইউটিউব থেকে অর্থ আয় করা যায়।ঠিক তেমনি ফেসবুক থেকে অর্থ আয় করা যায়।আপনি ফেসবুকে একটি একাউন্ট খুলে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন।ফেসবুক থেকে আয় করতে হলে সর্ব প্রথম যেটা দরকার তা হলো ফেসবুক আইডি।আপনি এই আইডি থেকে আয় করতে পারবেন না।তবেএই আইডির মাধ্যমে আপনার পছন্দের ক্যাটাগরির উপর একটি ফ্যান পেজ খুলতে হবে।তার মাধ্যমে প্রমোট করে আপনি অর্থ আয় করতে পারবেন।


FACEBOOK INCOME
FACEBOOK INCOME

ফেসবুক থেকে অর্থ ইনকামের বিভিন্ন উপায় :

ফেসবুক থেকে অর্থ ইনকামের বিভিন্ন উপায় আছে। তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য উপায় সম্পর্কে এখানে আলোচনা করছি।

১. ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে আয় করা যায় :

বর্তমানে ফেসবুক থেকে আয়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ভিডিও আপলোড করে আয় করা।ইউটিউবের মত ফেসবুকও ভিডিও আপলোড করে মনিটাইজ করে টাকা আয় করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে।ইউটিউবের চাইতে ফেসবুকের বড় সুবিধা হলো যে কোন ভিডিও আপলোড করলে অনেক বেশী মানুষের কাছে পৌঁছা যায় এবং ভিডিওর অনেক ভিউ পাওয়া যায়।ফেসবুক তরফ থেকে এমন একটি নতুন প্রক্রিয়া বা সার্ভিস চালু করেছে, যা দ্বারা আপনি ফ্যান পেজ তৈরী করে বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করে আনলিমিটেড ইনকাম বা আয় করতে পারবেন।তবে ভিডিও মনিটাইজ করতে হবে। মনিটাইজ করতে হলে কিছু শর্ত আছে। শর্ত হলো আপনার পেজ মিনিমাম বা কমের পক্ষে দশ হাজার লাইক থাকতে হবে এবং ৩০ হাজার মিনিট ওয়াচটাইম থাকতে হবে।যাদের এই শর্ত পুরুন হবে তারাই মরিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবে।
আপনি আপনার ফ্যান পেজে ভিডিও আপলোড করবেন এবং তার সাথে ছোট ছোট বিজ্ঞাপন এড করবেন। যারা আপনার ভিডিও দেখবে এবং তাতে ক্লিক করলে তার থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।আপনাকে নতুন নতুন ব্রান্ডেড ভিডিও তৈরী করতে হবে। আপনি অন্যের ভিডিও ইডিট করেও আপলোড করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে আপনার আয় হলেও বেশী দিন ইনকাম চালিয়ে যেতে পারবেন না। কারন ফেসবুক যে কোন সময় আপনার ভিডিও মনিটাইজেশন ব্যান্ড করে দিতে পারে।তাই অন্যের ভিডিও ইডিড না করে নিজে সুন্দর সুন্দর ভিডিও তৈরী করে আপলোড করুন এবং তার সাথে বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ ইনকাম করুন।

২. ফেসবুকে ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল লিখে আয় করা যায় :

ফেসবুকে ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল লিখে অর্থ আয় করা যায়। আপনি প্রতিদিন নিউজ ফিড স্ক্রল করার সময় বিভিন্ন নিউজের লিংন্ক বা ব্লগের লিংন্ক দেখতে পান। ঐ লিংকে ক্লিক করলে যে ব্লগ বা ওয়েব সাইটটি ফেসবুক থেকে অন্য ওয়েব সাইটে না যেয়ে সরাসরি ফেসবুকে দ্রুত গতিতে লোড হয়ে যে নিউজটি দেখতে পান আর সাথে কিছু এড দেখতে পান সেটাই মূলত: ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল।

ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল থেকে ইনকাম করতে চাইলে প্রথমে আপনার একটি ওয়েব সাইট থাকতে হবে এবং ওয়েব সাইটের একটি ফ্যান পেজ থাকতে হবে। আপনার ওয়েব সাইটে যদি তিন হাজারের বেশী ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি ইন্সট্যান্ট আর্টিকেলর জন্য আবেদন করতে পারবেন।আপনার আবেদন ফেসবুক সাইট এপ্রুভ করলে তা থেকে আপনার ইনকাম শুরু হবে। তার জন্য আপনাকে প্রতিদিন বা নিয়মিত আপনার ওয়েব সাইটে আর্টিকেল লিখতে হবে।যাতে ইন্সট্যান্ট আর্টিকেলে ইউজাররা ক্লিক করলে ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখতে পায়।

আপনি যত কন্টেন্ট লিখে ওয়েব সাইটে আপলোড করে ফেসবুকে শেয়ার করতে পারবেন তত বেশী ইনকাম করতে পারবেন।তবে কন্টেন্ট লিখায় সাবধান কখনো কপি পেষ্ট  করবেন না। মনে রাখবেন ফেসবুক নীতি লংঘন হলে যে কোন মূহুর্তে আপনার ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল একাউন্ট ব্যান্ড হতে পারে।

৩. ফেসবুক পেজ ভাড়া দিয়ে আয় করা যায় :

বিভিন্ন ওয়েব সাইট ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল  এপ্রুভ করার জন্য সাইটে ভিজিটর বাড়াতে হয়।তাই তারা অন্যদের কাছ থেকে একটিভ পেইজ ভাড়া নিয়ে তাদের নিজেদের ওয়েব সাইটের লিংক বসিয়ে শেয়ার করে থাকে। আপনি তাদের কাছে ফেসবুক পেজ ভাড়া দিয়েও আয় করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার ফেসবুক পেজে প্রচুর লাইক শেয়ার থাকতে হবে।
এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমে ওয়েব সাইটে  বা ব্লগ সাইটে ট্রাফিক এনে গুগুল এডসেন্স থেকেও আয় করা যায়।ওয়েব সাইট বা ব্লগ সাইটে যত ভিজিটর আসবে এডে তত বেশী ইমপ্রেশন হবে ও ক্লিক পড়বে।আর এডে ক্লিক পরলেই  আপনার আয় নিশ্চিত।

৪. ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন মার্কেটিং করে আয় করা যায় :

ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা আপনি যে কোন জিনিস, প্রডাক্ট, সার্ভিস বা অফার এখানে লিস্ট করে লোকদের দেখাতে পারবেন। এটা একটি online shopping website এর মত। এখানে যে কোন ব্যক্তি একাউন্ট তৈরী করে নিজের প্রোডাক্ট  বা সার্ভিস বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেনা-বেচা করতে পারবেন এবং সেখান থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।
আপনি যদি কোন কিছু বিক্রি করতে চান , তাহলে ফেসবুক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে লাখ লাখ লোককে ফেসবুকের মাধ্যমে দেখিয়ে তা বিক্রি করতে পারবেন। এতে আপনি ঘরে বসে আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য কাস্টমার পেতে থাকবেন।

আপনি আপনার প্রোডাক্ট ফেসবুক গ্রুপ, প্রোফাইল বা প্রমোটেড অপশন দ্বারা যে কোন শহর,দেশ বা লোকাল এলাকায় বিক্রি করতে পারবেন। আপনার দেয়া বিজ্ঞাপন বা পোডাক্ট  যদি কারো ভাল লাগে তাহলে সে আপনাকে মোবাইল নম্বরে ফোন করে জেনে প্রোডাক্ট কিনে নিতে পারবে। এখন ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেকেই নিজের পন্য অনলাইনে বিক্রি করে ব্যবসা করছেন।

আজকাল ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাজারো মার্কেট প্লেস।এসব মার্কেট প্লেসে বিভিন্ন সামগ্রী কেনা বেচা হচ্ছে।বিভিন্ন রকমের ড্রেস, জুয়েলারি , কসমেটিকস, হ্যন্ডিক্রাফট, বই, এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনলাইনের মাধ্যমে কেনা-বেচা হচ্ছে।ফেসবুকে এসব অনলাইন মার্কেটিং পেজ বা গ্রুপ বিভিন্ন ছবি, বিবরন, সাইজ ও দাম দেয়া থাকে।ম্যাসেজ দিয়ে বা কমেন্টে গ্রাহকেরা তাদের পছন্দমত পন্য অর্ডার করে থাকে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অর্ডার করার সময়ই ক্রেডিট কার্ডে বা বিকাশের মত অন্যান্য পদ্ধতিতে টাকা পরিশোধ করে নেয়। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের ফরমায়েশ অনুযায়ী যথাসময়ে মাল ডেলিভারি করে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করে থাকে।অনলাইনে জিনিস বিক্রির জন্য “ফেসবুক শপ” নামের অসাধারন একটি আ্যাপ রয়েছে। আপনার অনলাইন মার্কেট এর কোন ওয়েব সাইট থাকলে আপনি এই আ্যাপের ব্যবহার করতে পারেন।

৫. ফেসবুক পেজ বিক্রি করে আয় করা যায় :

ফেজবুক পেজ বিক্রি করে আয় করতে হলো আপনার পেজে প্রচুন লাইক থাকতে হবে।অনেক ব্লগার বা ইউটিউবের চ্যানেল  মালিকরা নিজের ব্লগ বা চ্যানেলের প্রমোট করার জন্য অনেক রকমের ফেসবুক পেজ কিনতে চায়। যদি আপনার ফেসবুক পেজে ভাল সংখ্যক লাইক থাকে তাহলে সেই পেইজ আপনি ভাল দামে বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারেন।আপনি আপনার যে পেজটি বিক্রি করতে চান সে পেজটির পোস্ট নিজের ফেসবুক গ্রুপে বা একাউন্টে দিয়ে দেখতে পারেন।এছাড়া ফেসবুক কেনা বেচার অনেক গ্রুপ  রয়েছে। সেগুলোতে আপনার পেজ বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন বা পোষ্ট দিতে পারেন।যদি কেউ আপনার পেজ কিনতে চান তাহলে সে আপনার সাথে ডাইরেকট ফেসবুকের মাধ্যমে বা মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে। তখন তা একটা ভাল দামে বিক্রি করে আয় করতে পারেন।


পরিশেষে কথা হচ্ছে আমরা যারা অনলাইন আয়ের খোজ খবর রাখছি তাদের কাছে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি সবচেয়ে পরিচিত একটি নাম। ফেসবুকের মাধ্যমেও ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব।সেটা হচ্ছে ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেক গ্রুপ আছে। এসব গ্রুপের মেম্বাররা বিভিন্ন কাজের জন্য অপারচুনিটি শেয়ার করে। এর ফলে অনেকেই খুজে পেতে পারেন তাদের গন্তব্য। কারন কন্টেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অনলাইন মার্কেটিং এর মত নানা ধরনের গ্রুপ ও পেজ রয়েছে ফেসবুকে। তাই ফেসবুক হচ্ছে এমন একটি মিলন মেলা যেখানে হাজারো কাজের সন্ধান পাওয়া সম্ভব।আসুন ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে অর্থ আয়ের দ্বার উম্মোচন করি।

Post a Comment

0 Comments