শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads

থার্টিফাস্ট নাইট এবং ইংরেজী নববর্ষ - 2020

থার্টিফাস্ট নাইট :

জীবনের মহামুল্যবান একটি বছর পেছনে ফেলে সমগ্র বিশ্ব বরণ করতে যাচ্ছে ইংরেজী নববর্ষ - 2020। সু-স্বগতম নববর্ষ।বর্তমান বিশ্বে যতগুলো অব্দ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী দেশে চালূ রয়েছে খ্রিষ্টাব্দে।৫৩০ খিৃষ্টাব্দে দ্য উনিস উথের চালু করা এই অব্দ সারা বিশ্বে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত স্বীকৃত এবং গৃহিত।বিশ্বায়নের যুগে সারা বিশ্ব আজ এক সমীকরনে মিলিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক কারনে এই ঢেউ বাঙালী সংস্কৃতিতেও মৃদু বাতাস বইছে।পুরাতন জরাজীর্ণতা ও গ্লানি ভুলে নতুন সুখ স্বপ্ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার দীপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত হয় নতুন বার্তায়।ডিসেম্বরের শেষ দিনটি ইংরেজরা পালন করেন থার্টি ফাস্ট নাইট হিসাবে।ডিসেম্বর মাসের একত্রিশ তারিখের দিবাগত রাতকে থার্টি ফাস্ট নাইট বলা হয়।আমরা জাতিগত ভাবে বাঙালী হলেও সারা বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে আমরাও ইংরেজী নববর্ষ উৎযাপন করে থাকি।কিন্তু ইদানিং ইংরেজী নববর্ষ পালনের নামে যা হচ্ছে তা সত্যিই লজ্জাজনক। নিজেদের শেকরের কথা ভুলে গিয়ে ইংরেজী নববর্ষ পালন করতে প্রতি বছর থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের নামে চলে বিদেশী নোংরা সংস্কৃতির চর্চা।

Thirty first night
Thirty first night


আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ইংরেজী ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে ২০১৯ সাল।নতুন চিন্তা-চেতনা, আশা-ভরসা নিয়ে নতুন উদ্যমে নতুন সালকে বরন করে নিতে রাজধানী সহ দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন চলছে।বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দুই দশক ধরে আমাদের দেশে এক উদ্ভুট অনুষ্ঠান থার্টি ফাস্ট নাইট বা ইংরেজী নববর্ষ অনুষ্ঠান পালিত হয়।অর্থাৎ ৩১ তারিখ রাত ১২টার পর রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার চেচামেচি, পটকা ফোটানো, লেজার লাইট শো, অভিজাত এলাকায় হোটেল গুলোতে মদসহ অন্যান্য পানীয় গ্রহন করা হয়।এগুলো বাঙালী সংস্কৃতির জন্য কতটা ধারক ও বাহক সেটা আমরা একবারও চিন্তা করি না।অথচ এই মাসেই ৩০ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বে মানচিত্রে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবার ঠাই পেয়েছিলাম।সেই মানচিত্রের বুকে আমরা আমাদের সেই বাংলা সংস্কৃতির মর্যাদা কতটুকু দিতে পেরেছি ? তা না করে এই থার্টিফাস্ট নাইট এবং ইংরেজী নববর্ষ 2020 উদযাপনের মাধ্যমে বাঙালীর যে নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে সেটা আজ আমরা ভুলতে বসেছি।

বাঙালী সংস্কৃতি আর ইংরেজী সংস্কৃতির মধ্যে আমরা বিস্তর পার্থক্য দেখতে পাই। বাংলা সংস্কৃতি মানে বাংলাকে কিভাবে লালন করা যায়, কিভাবে এই সংস্কৃতিকে প্রত্যেকের জীবনের সাথে মিশিয়ে রাখা যায় সেটার চেতনা। আর ইংরেজী সংস্কৃতি ইংরেজদের মদ বেয়ার, ঢলাঢলি, বেহায়পনা ইত্যাদি।আমাদের উচিত ইংরেজি সংস্কৃতি পরিহার করে বাঙালী সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরা।

’থার্টি ফাস্ট নাইট’ এর ইতিহাস অনেক পুরাতন। ঈসা (আ:) এর জন্মের প্রায় ৪৬ বছর আগে ব্যবিলনের সম্রাট জুলিয়াস সিজার ইংরেজী নববর্ষ পালনের সূচনা করেন।তৎকালীন সময়ের অধিকাংশ মানুষ সভ্যতার গন্ডির বাহিরে বাস করার কারনে তাদের দৈনন্দিন জীবন পালনে উচ্ছৃখলাতাই বেশী পরিলক্ষিত হত।সাধারনত: ঈসায়ী সালের শেষ মাস ডিসেম্বরের অর্ধরাত অতিবাহিত হওয়ার পর রাত ১২টা ০১মিনেট থেকে থার্টি ফাস্ট নাইট এর অনুষ্ঠান শুরু হয়।আর বিদেশী সংস্কৃতির ধারক এ দেশের কিছু বিপথগামী তরুণ-তরুণীরা এটা ঘটা করে উদযাপন করছে নোংরাভাবে।বাংলাদেশের মত একটি সভ্য দেশে এ রাতে অসভ্যতার সীমা থাকে না।

থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের নামে গোটা দেশ অশ্লীলতার চাদরে ঢেকে যায়।শহরের অভিজাত রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল এবং কিছু বাসায় রাতভর বসে অসামাজিক কর্মকান্ডের পসরা। কি না থাকে তাতে ? তরুণ- তরুণীদের ধ্বংস করার জন্য যা চাই তার সবটার রসদ এ সকল অনুষ্ঠানে মওজুদ থাকে। আমাদের দেশে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করার নামে আয়োজন করা হয় গান-বজনা, নাচ-গান, ডিস্কো নাচ বা ডিজে ( উলঙ্গ নৃত্য), পটকা বাজি, আতশ বাজি, বেপরয়া মটর সাইকেল চালানো, আনন্দ শোভাযাত্রা, তরুণ-তরুণীদের রাতভর উল্লাস, মদ-বিয়ারসহ নানা মাদকদ্রব্য সেবনে প্রলুব্ধ করতে কনসার্ট, লাইভ ড্যান্স, বিদেশী সংগীতানুষ্ঠানসহ তরুণ-তরুনীদের বিভিন্ন অপকর্ম করতে প্রলুব্ধ করে। যা তরুন সমাজকে ধ্বংসর পথে ধাবিত করে। অনেক তরুণী নি:স্ব হয়ে যায়।

যে সব তরুণ-তরুণীরা আগামী দিনের কর্নধার হবে, তার যদি এমন বিপথগামী হয়ে পড়ে তবে দেশের ভবিষ্যৎ চির অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।আর যেন কোন মা-বার মুখে চুনকালি দেয় এমন সন্তানের জন্ম না হয়।তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।সন্তান বিপথে গেলে অভিভাবকদের ক্ষতিটাই বেশি।এই অবক্ষয়ের হাত হতে রক্ষা পেতে আমাদের সবার সচেত হতে হবে।

তাই তরুণ সমাজের প্রতি উদাত্ত্ব আহবান আসুন বিদেশী সংস্কৃতি পরিহার করে বাঙালী সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরি, নিজেকে বাঙালীয়ানা হিসাবে গড়ে তুলি। বিদেশী নোংরা সংস্কৃতি পরিহার করে দেশীয় সংস্কৃতিতে জীবন গড়ে তুলি। নোংরামী ভন্ডামী ত্যাগ করে নিজেকে সভ্য সমাজে সভ্য মানুষ হিসাবে গড়ে তুলি। আরেকটি কথা বছর শেষে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে না যেয়ে মধ্যরাতে বের হই অসহায় ছিন্নমুল মানুষের জন্য - ”শীত বস্ত্র দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াই”। 

Post a Comment

0 Comments