শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

header ads

রোহিঙ্গা গনহত্যা : দ্য হেগের আদালতে ’অংসান সুচী’

রোহিঙ্গা কারা :

রোহিঙ্গা শব্দটি রোয়াইঙ্গিয়া থেকে এসেছে ’রোহিঙ্গা’।৭ম-৮ম শতাব্দীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। প্রাথমিক ভাবে মধ্যপ্রাচ্য মুসলমান ও স্থানীয় আরাকানদের সংমিশ্রনে রোহিঙ্গা জাতীর উদ্ভব হয়।পরবর্তীতে রাখাইন, আরাকান,বার্মিজ, বাঙালী প্রভৃতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল রাখাইন রাজ্য। এর আদি নাম আরাকান। রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটের উত্তরাংশের বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী। এদের বেশির ভাগই মুসলমান।রাখাইন স্টেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলো রোহিঙ্গা।সংখ্যায় প্রায় ২০ লাখ। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও উগ্র রাখাইনদের সাম্প্রদায়িক আক্রমনের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশেই এসেছে ৭ লাখ রোহিঙ্গা।



বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে চালানো এক সেনা অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ধর্ষিত, নির্যাতিত এবং নিহত হয়। মিয়ানমারের সামরিক সেনাবাহিনী অত্যাচার, নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ৭ লক্ষেরও বেশী রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

হামিদা নামক এক রোহিঙ্গার বক্তব্য, আমরা ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের টেকনাফের কুতুপালংয়ে আশ্রয় নিয়েছি। তিনি বলেন, তার এক ভাই ও তার অন্ত:সত্বা স্ত্রী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছে। এরপর জীবন বাঁচাতে তিনি এবং পরিবারের বাকিরা পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে। হামিদা বেগম বলেন, আমরা শুনেছি আমাদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তার বিচার শুরু হয়েছে, আমি চাই যাতে সঠিক বিচার হয়।

আন্তার্জাতিক আদালতে দ্য হেগে বিচার শুরু হয়েছে ১০ ডিসেম্বর,২০১৯  মঙ্গলবার।এই বিচারের কথা শুনে বাংলাদেশের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে খোজ নিয়ে জানা যায়, সেখানকার মসজিদ গুলোতে তারা বিশেষ দোয়া - মোনাজাতের ব্যবস্থা করেছেন।কুতুপালং ক্যাম্পের একজন রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দোয়া করছি যাতে করে আমাদের উপর নির্যাতনের সঠিক বিচার হয়’।


গাম্বিয়ার মামলা :

ও আই সি এর সদস্য রাষ্ট্র গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে  রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর গনহত্যা, ধর্ষন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য আন্তার্জাতিক আদালতে মামলা করেন। যার বিচার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার বিকেল তিন টায়।এই আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গনহত্যা, ধর্ষন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।ইসলামী দেশ গুলোর জোট ও আই সির পক্ষে গাম্বিয়া - মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গনহত্যার অভিযোগ এনে দ্যা হেগের আন্তার্জাতিক বিচার আদালতে মামলাটি করেছে গত ১১ ই নভেম্বর।
SUCI
SUCI

অংসান সুচির বক্তব্য :

মিয়ানমারের নেত্রী অংসান সুচি জাতিসংঘের আন্তার্জাতিক বিচার আদালতে তার দেশের বিরুদ্ধে আনা গনহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি বলেন, মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা “অসম্পূর্ণ এবং অসত্য”।তার কথায়, ওই সেনা অভিযানের পেছনে গনহত্যা চালানোর অভিপ্রায়ের কোন প্রমান নেই।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি উপলব্ধি করা সহজ নয় । ২০১৭ সালের আগস্টের ঘটনাবলী শুরু হয়েছিল যখন স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলো পুলিশ ফাঁড়ির ওপর আক্রমন চালায়।

তিনি স্বীকার করেন, মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনী হয়তো মাত্রাতিরিক্ত রকমের শক্তি প্রয়োগ করে থাকতে পারে। মিজ সুচি আরো বলেন, যদি মিয়ানমারের সৈন্যরা যুদ্ধাপরাধ করে থাকে তাহলে তাদের বিচার করা হবে।

অংসান সুচি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রধান বাসভূমি রাখাইন প্রদেশে গোলযোগের ইতিহাস কয়েক শতাব্দীর এবং এ সংঘাতকে আরো গভীর করতে পারে এমন কিছু না করতে আইসিজের প্রতি আহবান জানান তিনি।

মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে বয়কটের ডাক :

আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা মামলার শুনানির আগে মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি প্রচারনা শুরু করেছে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনসহ বিভিন্ন দেশে সক্রিয় থাকা রোহিঙ্গাদের বেশ কিছু সংগঠন।
ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের ওয়েবসাইটের বরাতে বলেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের সমর্থনকারী মানবাধিকার কর্মীরা মিয়ানমারকে বিশ্বব্যাপী বয়কটের এ প্রচারণা শুরু করেছেন।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন ‘বয়কট মিয়ানমার ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক বিবৃতিতে বলেছে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা মামলার শুনানির প্রাক্কালে রোহিঙ্গা অধিকার কর্মীরা যে “গ্লোবাল বয়কট মুভমেন্ট” শুরু করেছে তাতে কর্পোরেশন, বিদেশী বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানিয়েছে।


মিয়ানমারে গনতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের কারনে নোবেল শান্তি পুরুস্কার পাওয়া অংসান সুচি,  এক সময় ছিলেন আন্তর্জাতিক ভাবে নন্দিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার ভুমিকার কারনে সেই তিনিই বিশ্বের বহু দেশের নিন্দা ও ধিক্কারের পাত্র হন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিজ সুচিকে দেয়া মম্মাননা প্রত্যাহার করে নেয়। গনহত্যা মামলার আন্তর্জাতিক আদালতে মিজ সুচির হাজিরাকে তাই এক নাটকীয় ঘটনা হিসাবে দেখা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments