শিক্ষা ঐক্য প্রগতি


শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

Email : rahmanmunju@gmail.com

ভেলেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবসের ইতিকথা

ভেলেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবস :

১৪ ই ফেব্রয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস বা ভেলেন্টাইন ডে।এ দিনটিকে বিশ্ব ব্যাপি ভালবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধবী, স্বামী-স্ত্রী, সহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষেরা এই দিনে একে অপরকে তাদের ভালবাসা জানায়।এই দিনে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো ভালবাসার মানুষের দ্বারা পরিপূর্ন থাকে। ভালবাসা দিবসের এই দিনে সবাই ফুল ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে ভালবাসার মানুষকে ভালবাসা নিবেদন করে।" I love you- আমি তোমাকে ভালবাসি”।


Valentine Day


Valentine Day

প্রশ্ন হলো এই ভালবাসা দিবস কবে থেকে কিভাবে এলো। ভেলেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবস নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ বা মতপার্থক্য রয়েছে।’ভেলেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবসের ইতিকথা’য় জানবো ভালবাসা দিবস কিভাবে এলো।

প্রথম বর্ননা : 

প্রাচীন রোমে রোমান দেব-দেবীর রাণী জুনোর সম্মানে ১৪ই ফেব্রয়ারী ছুটির দিন ছিল।জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী বলে বিশ্বাস করা হতো।তাকে কেন্দ্র করে ভেলেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন করা হয়।


দ্বিতীয় বর্ননা :

রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস ২০০ খ্রিস্টাব্দে দেশে বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন।তিনি ঘোষনা করেন, আজ থেকে কোনও যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধুই যুদ্ধ। তার মতে যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা।সম্রাট ক্লডিয়াসের এ অন্যায় ঘোষনার প্রতিবাদ করেন এক যুবক। তার নাম ভেলেন্টাইন। অসীম সাহসী এ যুবকের প্রতিবাদে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন সম্রাট। রাজদ্রোহের শাস্তি হিসাবে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।১৪ই ফেব্রয়ারী ভোরবেলা তার মাথা কেটে ফেলা হয়।ভালবাসার জন্য ভেলেন্টাইনের এ আত্মত্যাগকে স্বরনীয় করে রাখতে ১৪ই ফেব্রয়ারী থেকে ভেলেন্টাই ডে বা ভালবাসা দিবস পালন করা হয়।


তৃতীয় বর্ননা :

প্রাচীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন চিকিৎসক ছিলেন।তিনি রোগীদের প্রতি ভীষন যত্নবার ও সদয় ছিলেন।তিনি অসুস্থ মানুষের ঔষধ খেতে কষ্ট হয় বলে তেতো ঔষধ ওয়াইন, দুধ বা মধুতে মিশিয়ে খেতে দিতেন। সেই ডাক্তার খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহন করেন। সেই সময় প্রাচীন রোমে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহন মোটেও সমীচিন ছিল না।এই ধর্মে বিশ্বাসীদের শাস্তী দেওয়া হতো। তাই তাকে কারাবন্দী করা হয়।তার চিকিৎসার সুনাম ছিল। একদিন কারা প্রধান তার অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য তার কাছে নিয়ে আসেন। তখন তিনি বলেন সাধ্যমতো আমি চিকিৎসা করবো।মেয়েটির চিকিৎসা চলছিল এমন সময় হঠাৎ একদিন রোমান সৈন্যরা এসে ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যান।ভ্যালেন্টাইন বুঝতে পেরেছিলেন, খ্রিস্টান হওয়ার অপরাধে তাকে মেরে ফেলা হবে।২৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মতান্তরে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ই ফেব্রয়ারী ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। তার আগে ভ্যালেন্টাই অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়ে ছিলেন। তাকে হত্যার পর কারা প্রধান চিরকুটটি মেয়েকে দিয়ে ছিলেন।তাতে লিখা ছিল - ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’ ('From your Valentine')। ইতিমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় মেয়েটির অন্ধ দুটি চোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল।মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ত্রৌকস ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল।ভালবাসর এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রয়ারীর ১৪ তারিখকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষনা করেন। তখন থেকে এই দিবসটিকে মানুষেরা ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে পালন করে আসছে।


চতুর্থ বর্ননা :

সমস্ত ইউরোপ যখন খ্রিস্টান ধর্মের জয় জয়কার তখনও বড় আয়োজেনে পালিত হত রোমীয় একটি রীতি।মধ্য ফেব্রয়ারীতে সম্ভবত ১৪ই ফেব্রয়ারীতে গ্রামের সকল যুবকেরা সমস্ত মেয়েদের নাম লিখা চিরকুট তুলতো একটি বাক্সে থেকে , যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত সে পুর্নবৎসর ঐ মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত।আর তাকে চিঠি লিখতো এই বলে যে, ‘প্রতিমা মাতার নামে তোমায় প্রেরন করছি’। বৎসর সমাপন্তে এ সম্পর্ক নবায়ন বা পরিবর্তন করা হতো এ রীতি থেকে ভালবাসা দিবস পালন করা হয়।


পঞ্চম বর্ননা :

কথিত আছে খ্রিস্টান ধর্মের প্রথম দিকে রোমান কোন এক গীর্জায় ভ্যালেন্টাইন নামক দুজন সেন্ট (পাদ্রী) এর মস্তক কর্তন করা হয়। নৈতিক চরিত্র বিনষ্টর অপরাধে তাদের মস্তক কর্তন করা হয়। যা ছিল ১৪ ই ফেব্রয়ারী।তাদের ভক্তরা তাদের শহীদ আখ্যা দেয়।রোমান ইতিহাসে শহীদদের তালিকায় এ দুজন সেন্টের নাম রয়েছে।তাদের স্বরনে একটি রাজপ্রসাদও নির্মন করা হয়। এ থেকে ভ্যালেন্টাইন দিবস পালন করা হয়।

ভেলেন্টাইন ডে’র উৎপত্তির বিষয়ে আরেকটি  ভিন্ন মতও রয়েছে। তা হলো প্রাচীন কালে মানুসের বিশ্বাস ছিল, ১৪ই ফেব্রয়ারী পাখিদের বিয়ের দিন।পাখিরা বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিম পাড়তে বসে। আবার কেউ বলেন, এ দিন থেকে পাখিদের মিলন ঝৃতু শুরু হয়।তাদের মধ্যে ভালবাসা বন্ধন শুরু হয়। পাখিদের দেখাদেখি মানুষও তাই সঙ্গী নির্বাচন করে এ দিন।অর্থাৎ ভালবাসা নিবেদন করে একে অপরকে।

বাংলাদেশে ভেলেন্টাইন ডে :

বিশ্ব ভালবাসা দিবসে গোটা বিশ্ব মাতোয়ারা থাকে তাদের প্রিয়জনকে ভালবাসার উপহার, ফুল, চকলেট দেয়ার জন্য।পাশাপাশি বাংলাদেশও কিন্তু থেমে থাকেনা। এ দিন বাংলাদেশের রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে ভালবাসর মানুষের সাথে মিলনে মুখর হযে উঠে।পার্ক, রেস্তোরা, ভার্সিটির করিডোর, টিএসসি, ওয়াটার ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলা, আশুলিয়া, কুয়াকাটা, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন সহ বিভিন্ন স্থানে প্রেমিক-প্রেমিকাদের তুমুল ভিড়।ভেলেন্টাইন ডে উপলক্ষে অনেক দম্পতিও উপস্থিত হয় প্রেমকুঞ্জ গুলোতে।আমাদের দেশের এক শ্রেনির তরুন-তরুনী, যুবক-যবতী, এমনকি বুড়া-বুড়ীরা পর্যন্ত নাচতে শুরু করে ভালবাসায় মাতোয়ারা হয়ে।তারা পাঁচতারা হোটেলে, পার্কে, উদ্যানে লেকের ধারে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসে পাশে ভালোবাসা বিলাতে থাকে মনের মাধুরী মিশিয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করে।



পরিশেষে কথা হচ্ছে, ভালবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে অনেক প্রচলিত ঘটনা রয়েছে। একেক জন একেক বিবৃতি বর্ননা করেছেন। বাংলাদেশে ভালবাসা দিবস উদযাপন শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। এ ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। ভালবাসা মানুষকে একে অপরের মধ্যে গভীর সম্পর্ক সৃস্টি করে।ভালবাসা একে অপরের মধ্যে নিবির সম্পর্ক সৃস্টি হয়।ভালবাসা এক অপরকে কাছে টানে।কিন্তু মনে রাখবেন ভেলেন্টাইন ডেতে ভালবাসার নৈতিক স্খলন করে সেই ভালবাসাকে আমরা এমন দিকে ঠেলে না দেয় যা জীবনে কান্নার পাথেয় হয়ে দাঁড়ায়।

Post a Comment

0 Comments