করোনাভাইরাস কি এবং করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়

করোনা ভাইরাস এক প্রকার সংক্রামক ব্যাধি যা মানব দেহের মধ্যে ছড়ায়। একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়ায়।ইহার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। তার মধ্যে সাত প্রকার প্রজাতি মানুষের শরীরে ছড়ায়। চীনের ইউহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঘটে।তারপর বিভিন্ন জায়গায় এর বিস্তার ঘটে।


Coronavirus
Coronavirus



করোনাভাইরাস কি :

করোনা ভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন শব্দ করোনা থেকে এসেছে যার অর্থ মুকুট। কারন ইলেকট্রন অণুবীক্ষন যন্ত্রে ভাইরাসটি দেখতে মুকুটের মতো। ভাইরাসের উপরিভাগে প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক পেপলোমার দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে।এ প্রোটিন সংক্রামিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে।সকল প্রজাতির করোনা ভাইরাসে সাধারণত স্পাইক, এনভেলপ, মেমব্রেন এবং নিউক্লিওক্যাপসিড নামক চার ধরনের প্রোটিন দেখা যায়।এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির করোনা ভাইরাস আছে। যার মধ্যে ৭ প্রজাতির ভাইরাস মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রুপ নিচ্ছে এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।এ ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমন ঘটায় এবংশ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।সাধারনত ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে।তবে এর পরিনামে অরগান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে।তাই করোনা ভাইরাস একটি মারাত্মক ব্যাধি।


করোনা ভাইরাসের লক্ষন কি :

করোনা ভাইরাস সংক্রমনের প্রধান লক্ষন হলো, জ্বর,কাশি এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমন হতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে।প্রথম লক্ষন হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় সর্দি কাশি এবং এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পাশাপাশি নিউমোনিয়া এবং কিডনিতে সমস্যা সহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। এ অবস্থা দেখা দিলে ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হতে হবে বা নিকটস্থ কোন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় :

চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের সূচনা হয়। ২০০২ সালে চীনে প্রথম বিড়াল থেকে মানব শরীরে এই ভাইরাস (মার্স ) সংক্রমনের কথা জানা যায়।৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখা যায় , তা দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর জানুয়ারীর ‍দ্বিতীয় সপ্তাহে একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে চীনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাসের সংক্রমনের সম্ভাবনা রয়েছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আসলে ফ্ল্যাবিও ভাইরাস যা দ্রুত সংক্রমিত হয়।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা :

ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনও এর কোনও টিকা বা প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি।এমন কি কোন চিকিৎসাও নেই যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে মানুষকে নিয়মিত ভালোভাবে হাত ধোয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে।হাঁচি কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা ও ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দুরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছে তারা। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ সার্জিক্যাল মুখোশ পরা শুরু করেছে।তবে যেহেতু কোন ভ্যাকসিন নেই তাই সাধারন চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সচরাচর যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।সবচেয়ে বড় কথা হলো রোগীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা।


করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় : 

প্রানঘাতী করোনা থেকে বাঁচতে হলে কিছু পদক্ষেপ বা নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। নীচে করোনা ভাইরাস এবং করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় সমূহ আলোচানা করা হলো :- 

১. যাদের হাঁচি-কাশি আছে তাদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। কারন আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশি থেকে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন।তাই সতর্কতা অবলম্বন করুন।
২.বারবার হাত দিয়ে নিজের চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না। কারন মানব শরীরে জীবানু প্রবেশের প্রধান ফটক হচ্ছে নাক, কান, মুখ।
৩. কোন কাজের পর বা বাহির থেকে এসে সাবান বা হ্যান্ড ওয়াস দিয়ে ভালভাবে দুই হাত বিশুদ্ধ পানি দিয়ে পরিস্কার করুন।যাতে কোন প্রকার ভাইরাস হাতে না লেগে থাকে।
৪. জ্বর হাঁচি-কাশি থাকলে ভ্রমন করবেন না বা বাহিরে বের হবেন না।জ্বর, হাঁচি-কাশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৫.শ্বাস প্রশ্বসের সাথে নাক, কান, মুখ দিয়ে যাতে ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করুন।মনে রাখবেন আপনার মাস্ক কতটা পরিস্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত তা নিশ্চিত হতে হবে।একটি মাস্ক একবার ব্যবহারের পর পরিস্কার না করে দ্বিতীয়বার ব্যবহার না করা উচিত।
৬.হাঁচি-কাশি হলে টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।তাতে নিজে এবং অন্য মানুষ সুরক্ষিত থাকবে।ব্যবহৃত টিস্যু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। যত্রতত্র সর্দি কাশি ও থুতু ফেলবেন না।
৭. জ্বর, হাঁচি- কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
৮. সংক্রমিত বিদেশ থেকে কেউ নিজদেশে বা নিরাপদ এলাকায় আসলে অন্তত ১৪ দিন হোমকোয়ারেন্টাইনে বা পর্যবেক্ষনে থাকুন।অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।তাতে নিজে বাচুন এবং অপরকে বাঁচতে সাহায্য করুন।
৯. কোন খাবার ভাল করে রান্না না করে খাবেন না। ডিম কিংবা অন্য কোন খাবার ভাল করে সিদ্ধ করে খাবেন।
১০.বাসার আসাবাব পত্র বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।কুসুম কুসুম গরম পানির সাথে লবন মিশিয়ে গরাগরা কুলি করুন। 

পরিশেষে কথা হচ্চে যেহেতু করোনা ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার হয় নাই এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নেই, তাই উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলো মেনে চলবো। পাশাপাশি ডাক্তারে পরামর্শ নিব।নিজে বাঁচুন এবং অপরকে বাঁচতে সাহায্য করুন।

Post a Comment

0 Comments